Ghatal Master Plan: ‘আরামবাগকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নয়’, শুরু আন্দোলন, বাড়ছে রাজনৈতিক তরজাও – Bengali News | People will suffer if Arambag not include in Ghatal Master plan, say people of Arambag
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদেরImage Credit source: TV9 Bangla
আরামবাগ: ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করতে পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু, আরামবাগ মহকুমাকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর হলে বিপর্যয় নেমে আসবে আরামবাগে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগ মহকুমাকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ‘খানাকুল বাঁচাও সোসাইটি’-র ব্যানারে আন্দোলনে নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, আরামবাগকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর হলে ঘাটাল বাঁচলেও ভয়াল বন্যায় ভুগতে হবে আরামবাগবাসীকে।
রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে ৫০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যানে নেই বন্যা কবলিত আরামবাগ মহকুমার নাম। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগ মহকুমার অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকার মানুষজন। ইতিমধ্যেই খানাকুলে গণস্বাক্ষর অভিযান চালাচ্ছে ‘খানাকুল বাঁচাও সোসাইটি’র সদস্যরা। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পথসভা সংঘটিত হচ্ছে।
গোঘাট ও আরামবাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত দ্বারকেশ্বর ও ঘাটালের দিক থেকে প্রবাহিত শিলাবতী খানাকুলের বন্দর-ধান্যঘরি এলাকায় একসঙ্গে মিশে রূপনারায়ণ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে খানাকুলের পানশিউলিতে দামোদরের শাখা নদী মুণ্ডেশ্বরী রূপনারায়ণে মিশেছে। খানাকুলের প্রচুর খাল বিলও রূপনারায়ণে মিশেছে। ফলে রূপনারায়ণের জল বাড়লে এই সমস্ত খালগুলি দিয়ে খানাকুলের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে যায় জোয়ারের জলও। রূপনারায়ণের জল বাড়লে প্লাবিত হয় গোটা খানাকুল। ঘাটালের দিক থেকে জলের চাপ বাড়লে খানাকুল, আরামবাগের একটি বিস্তীর্ণ অংশ ও গোঘাটের জল নিকাশির সমস্যা হয়। জলের চাপ রূপনারায়ণে থাকায় গোঘাট ও আরামবাগের বন্যার জল নামতে পারে না। অন্যদিকে ঘাটালে জলের চাপ থাকায় পরোক্ষভাবে প্লাবিত হয় আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশ। আটের দশকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের রূপরেখা ঠিক হয়, যাতে অন্তর্ভুক্তি ছিল আরামবাগ মহকুমার।
এই খবরটিও পড়ুন
এখন ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগ মহকুমা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সরব হয়েছে বিজেপি। গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বারে বারে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগ মহকুমার সংযুক্তি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই দাবিকে কেউই কোনও মান্যতা দেননি বলে অভিযোগ। খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষও এই নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন। বলেন, বিধানসভায় বারবার সরব হওয়ার পরও সরকার কোনও কর্ণপাত করেনি।
লোকসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী আরামবাগের কালীপুর স্টেডিয়ামের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ঘাটালের সাংসদ দেবকে নিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কার্যকরের রূপরেখা নিয়ে প্রচার করেছিলেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগ মহুকুমার অন্তর্ভুক্তি না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরে তিনমাস বন্যার সমস্যায় ভুগতে হয়। তাঁদের দাবি, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আরামবাগকে অন্তর্ভুক্ত যদি না করা যায়, তাহলে তাঁদের কীভাবে রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে পদক্ষেপ করুক সরকার।
কয়েক দশক ধরে পুড়শুড়া, আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুলের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তরুণ নন্দীর দাবি, আরামবাগ মহকুমাকে বাদ দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান সম্ভব নয়। যদি আরামবাগ মহকুমাকে বাদ দিয়ে মাস্টারপ্ল্যান হয় তাহলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় নেমে আসবে আরামবাগ মহকুমাজুড়ে।
এই নিয়ে খানাকুলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রমেন প্রামাণিক বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তো প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। আন্দোলনকারীদের খানাকুলের বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে আন্দোলন করা উচিত। আরামবাগেও মাস্টারপ্ল্যান হবে। নিশ্চিত থাকুন।” আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ বলেন, “ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান হলে আরামবাগ যে বঞ্চিত হবে এটা বলব না। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার পর আরামবাগ নিয়েও নিশ্চিত কিছু হবে।”
