Golden Dome: ট্রাম্পের 'সোনার ঘর' মহাকাশে পরমাণু যুদ্ধ লাগাবে, হুঁশিয়ারি কিমের - Bengali News | North Korea: US 'Golden Dome' could trigger 'Space Nuclear War' - 24 Ghanta Bangla News
Home

Golden Dome: ট্রাম্পের ‘সোনার ঘর’ মহাকাশে পরমাণু যুদ্ধ লাগাবে, হুঁশিয়ারি কিমের – Bengali News | North Korea: US ‘Golden Dome’ could trigger ‘Space Nuclear War’

Spread the love

আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ারImage Credit source: Social Media

পিয়ংইয়ং: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাধের ডিফেন্স সিস্টেম, ‘গ্লোডেন ডোম’-এর ব্যাপক সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া। গোল্ডেন ডোমের জন্য ভবিষ্যতে মহাকাশে পরমাণু যুদ্ধ লেগে যাবে, ট্রাম্পের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অভেদ্য মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের এই ভাষাতেই সমালোচনা করল পিয়ংইয়ং।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে বসে আমেরিকাকে সুরক্ষিত রাখতে একটি নেক্সট জেনারেশন ডিফেন্স সিস্টেম বানানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইজরায়েলের আয়রন ডোমের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার নাম রেখেছেন গোল্ডেন ডোম। ট্রাম্পের বক্তব্য, তিনি যে ডিফেন্স সিস্টেম বানাচ্ছেন, তা বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত, এমনকী মহাকাশ থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ধেয়ে এলেও আটকে দিতে পারবে। ট্রাম্পের এই প্রকল্পের সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই ডিফেন্স সিস্টেম ট্রাম্পের আকাশ প্রমাণ অহংকারের পরিচয়।’ পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, ‘এবার মহাকাশকেও যুদ্ধক্ষেত্র বানাতে চাইছে আমেরিকা। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প মহাকাশে পরমাণু যুদ্ধে লাগিয়ে দেবে।’

এমনিতেই উত্তর কোরিয়া দিনরাত আমেরিকার সমালোচনা করে চলে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সামরিক পর্যায়ে যৌথ মহড়াকে মোটেও ভাল চোখে দেখেন না উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। আসলে পিয়ংইয়ংয়ের আশঙ্কা, ‘গোল্ডেন ডোম’ তাদের পরমাণু হামলাকেও হয়তো আটকে দিতে পারে। তাই কিমের মন্ত্রীর মুখে ট্রাম্পের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের এত সমালোচনা। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র অ্যানালিস্ট হং মিন এক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, কিম হয়তো আশঙ্কা করছেন, একবার ‘গোল্ডেন ডোম’ তৈরি হয়ে গেলে উত্তর কোরিয়া যে কথায় কথায় পরমাণু হামলার হুমকি দেয়, সেটাতে আর আমেরিকা ডরাবে না। তখন ওই ডিফেন্স সিস্টেমকে ভেদ করতে পিয়ংইয়ংকে বিকল্প কোনও অস্ত্রের সংস্থান করতে হতে পারে।

এই খবরটিও পড়ুন

২০২২-এ উত্তর কোরিয়া নিজেদের পরমাণু শক্তিধর দেশ বলে ঘোষণা করে। সে দেশের সর্বাধিনায়ক কিম নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরমাণু শক্তিধর একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কোনও দেশই নাকি তাঁর মিসাইলের পাল্লার বাইরে নেই, এমনটা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করিয়েছেন কিম নিজে। তাঁর নতুন ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইলের রেঞ্জ নাকি ১৫০০ কিলোমিটার, ছোটে শব্দের চেয়েও ১২ গুণ তীব্র গতিতে। সেই মিসাইল আবার মাঝপথে গতিপথ বদলাতে পারে। আমেরিকা বরাবরই উত্তর কোরিয়ার এই মিসাইল হামলার সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আর এবার সেই চির-প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের সাধের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের সমালোচনায়।

অবশ্যই একা উত্তর কোরিয়া নয়, সম্প্রতি ‘গোল্ডেন ডোম’-এর পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর বেজিংকেও এর সমালোচনা করতে দেখা গেছে। বেজিংয়ের বক্তব্য, ‘আমেরিকার এরকম আগ্রাসী নীতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় হুমকি। আমেরিকা শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, বাকি কোনও দেশকে নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই।’ তবে যে যাই সমালোচনা করুক না কেন, ট্রাম্প এখন মজে রয়েছেন গোল্ডেন ডোম নিয়েই। ট্রাম্পের মতে, আজ পর্যন্ত মার্কিন সেনার ভাঁড়ারে যত ডিফেন্স সিস্টেম ছিল, কোনওটাই ততটা আধুনিক নয় যতটা এই আয়রন ডোম। আর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টই নাকি দেশের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা ভাবেননি যতটা তিনি ভাবছেন। তবে ট্রাম্পের এই স্বপ্ন মেটাতে গিয়ে আমেরিকার ভাঁড়ার থেকে যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে, সেটা আদৌ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি করতে দেবে কি না, কিংবা আদালত ছাড়পত্র দেবে কি না, সেই নিয়ে এখনও সন্দেহ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *