সময় বদলের খবর না পেয়ে ট্রেন মিস, রেল দেবে ১৫,৬২০ টাকা

ফিরোজপুর: নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় স্টেশনে সময়মতো পৌঁছেও ট্রেন ধরতে পারেননি এক যাত্রী। ট্রেনের সময়সূচি বদলের বিষয়ে যথাযথভাবে আগাম তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে এবার রেল (Indian Railways) এবং IRCTC-কে মোট ১৫,৬২০ টাকা ক্ষতিপূরণ ও টাকা ফেরতের নির্দেশ দিল পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। এর মধ্যে ১০,৬২০ টাকা টিকিটের মূল্য ফেরত এবং বাকি ৫,০০০ টাকা মানসিক হয়রানি ও আইনি খরচের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে।
The Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের সভাপতি কিরণজিৎ কৌর অরোরা এবং সদস্য সুমন খান্না এই নির্দেশ দিয়েছেন। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, যাত্রীদের সময়মতো এবং মানসম্মত পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন হলে সেই তথ্য যথাযথভাবে যাত্রীদের না জানানো পরিষেবায় গাফিলতির সামিল।
কী ঘটেছিল ওই যাত্রীর সঙ্গে?
অভিযোগকারী ২০২৪ সালের ১০ জুন গোয়ার মাডগাঁও থেকে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন পর্যন্ত যাত্রার জন্য নিজের, স্ত্রী এবং মেয়ের নামে মোট তিনটি টিকিট বুক করেছিলেন। টিকিটের জন্য খরচ হয়েছিল ১০,৬২০ টাকা।
ওই যাত্রীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাডগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছে যান তিনি। কিন্তু স্টেশনে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের ট্রেন ইতিমধ্যেই ছেড়ে চলে গিয়েছে। অভিযোগ, ট্রেনটির সময়সূচি পরিবর্তন করে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা আগেই যাত্রা শুরু করা হয়েছিল।
এরপর কী ঘটেছে জানতে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই যাত্রী। অভিযোগ, তাঁকে জানানো হয়, ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি যাত্রীদের জানানোর দায়িত্ব IRCTC-র।
ট্রেন মিস করার পর দিল্লি পৌঁছতে বাধ্য হয়ে পরিবারের তিন সদস্যের জন্য বিমানের টিকিট কাটতে হয় বলেও কমিশনকে জানান তিনি। এরপর পরিষেবায় গাফিলতি এবং অনৈতিক বাণিজ্যিক আচরণের অভিযোগ তুলে উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন।
রেল ও IRCTC-র যুক্তি কী ছিল?
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষাকাল এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ের জন্য আলাদা ট্রেনের সময়সূচি কার্যকর থাকে। তাদের দাবি, প্রতি বছর ১০ জুন থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকালীন সময়সূচি চালু থাকে। সেই অনুযায়ী ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল।
রেলের আরও দাবি, বর্ষাকালে যাত্রীদের ট্রেনের সময় যাচাই করে নেওয়া উচিত। সংশোধিত সময়সূচি স্টেশনের নোটিস বোর্ডে টাঙানো হয়েছিল, মাইকে ঘোষণাও করা হয়েছিল এবং কোঙ্কন রেলওয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছিল। তাই যাত্রীর নিজের অসতর্কতার কারণেই ট্রেন মিস হয়েছে বলে দাবি করে রেল।
অন্যদিকে, IRCTC জানায়, তাদের দায়িত্ব মূলত অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ট্রেন পরিচালনা বা ট্রেনের আগমন ও প্রস্থানের সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ
রেল এবং IRCTC-র যুক্তি ও জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর কমিশন তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেনি। কমিশনের মতে, যাত্রীদের পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সময়সূচি বদল হলে যাত্রীদের কাছে সেই তথ্য যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়াও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
কমিশন আরও জানায়, যাত্রীদের রেল প্রশাসনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে থাকতে বলা যায় না। ট্রেনের সময় পরিবর্তন হলে যাত্রীদের তা জানানোর যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।
সেই ভিত্তিতে নর্দার্ন রেলওয়ে, কোঙ্কন রেলওয়ে এবং IRCTC-কে যৌথভাবে ১০,৬২০ টাকা টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা, হয়রানি এবং মামলার খরচ বাবদ আরও ৫,০০০ টাকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে ওই যাত্রী পাবেন ১৫,৬২০ টাকা।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business