মধ্যমগ্রামে চিকিৎসার নামে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা ভেস্তে দিল স্থানীয় হিন্দুরা

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে ধর্মান্তরকরণ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Madhyamgram)স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে নিরাময় বা চিকিৎসার নামে একটি অনুষ্ঠানের আড়ালে খ্রিস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে ধর্ম…
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে ধর্মান্তরকরণ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Madhyamgram)স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে নিরাময় বা চিকিৎসার নামে একটি অনুষ্ঠানের আড়ালে খ্রিস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা চলছিল। ওয়ার্ড নম্বর ১৯-এর একটি বাড়িতে এমন কর্মকাণ্ড চলছে বলে খবর পেয়ে স্থানীয় হিন্দুরা সেখানে প্রবেশ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক মাসে এমন অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। অনেক এলাকায় ‘হাউস চার্চ’ বা বাড়ির ভেতরে প্রার্থনা সভার নামে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থতা, দারিদ্র্য বা সামাজিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। খ্রিস্টান সংগঠনগুলো অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাঁরা শুধু স্বেচ্ছায় আসা মানুষদের সঙ্গে প্রার্থনা করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন করেন না।
আরও দেখুনঃ রাস্তায় জন্মদিন ঘিরে একাধিক FIR! বাদ গেল না অভিষেক ও
মধ্যমগ্রামে খ্রিস্টান ফেলোশিপের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সেখানে সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার ক্লাস, নারীদের ফেলোশিপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করে, এসব কার্যক্রমের আড়ালে ধর্মীয় প্রচার চলছে।
সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রতিরোধ বেড়েছে বলে অনেকে দাবি করছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর নতুন পরিস্থিতিতে হিন্দু সংগঠনগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
পুলিশের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। (Madhyamgram)ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তন আইনত নিষিদ্ধ। এই সূক্ষ্ম রেখায় হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই সংঘাত বাধে। একদিকে খ্রিস্টান সম্প্রদায় দাবি করে তাঁদের প্রার্থনা সভায় হামলা হচ্ছে, অন্যদিকে হিন্দু সংগঠনগুলো বলছে তাঁরা শুধু অবৈধ ধর্মান্তরকরণ রুখতে চেষ্টা করছেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ একে সাম্প্রদায়িক উসকানি বলছেন, কেউ বলছেন এটি স্থানীয় মানুষের ন্যায্য প্রতিরোধ। (Madhyamgram)বাস্তবতা হল, দুর্বল ও অসহায় মানুষকে টার্গেট করে কোনো ধরনের প্রলোভন বা চাপ দিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করানো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে শান্তিপূর্ণ প্রার্থনা সভায় হস্তক্ষেপও উত্তেজনা বাড়ায়। পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো আইন মেনে উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষা করা এবং তথ্যভিত্তিক তদন্ত করা।