‘…তোকে বাঁচতে দেব না’, পুলিশ ফাঁড়িতেই খুনের হুমকি, পার্কিং নিয়ে বিবাদে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার অভিযোগ পড়শির বিরুদ্ধে
‘আজ রাতের পরে তোকে বাঁচতে দেব না।’ পুলিশ ফাঁড়িতে দাঁড়িয়েই প্রতিবেশীকে চড়া সুরে হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশকর্মীদের সামনেই খুনের হুমকি দেওয়ার পরেও, তাতে গুরুত্ব না দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সত্যি সত্যিই চলল গুলি। পড়শির উপরে গুলি চালিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। নয়টি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হলো প্রাক্তন টেক মাহিন্দ্রার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রিজিয়নাল বিজ়নেস হেড পরমজিৎ ধনখড়ের (৪৫)। পার্কিংয়ের বিবাদ থেকে খুনের অভিযোগ। হরিয়ানার ফরিদাবাদে ঘটেছে এমনই ভয়াবহ ঘটনা। অভিযুক্ত পড়শি মনু শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার বছরের বিবাদ, পার্কিং নিয়ে নতুন করে অশান্তি
ফরিদাবাদের সেক্টর ২১সি-র একই আবাসনে থাকতেন পরমজিৎ ও মনু। দুই পরিবারের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে বিবাদ চলছিল। যদিও বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি সফটওয়্যার সংস্থায় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন পরমজিৎ। সম্প্রতি দীপাবলির ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। সে সময়েই মনুর সঙ্গে ফের বিবাদ শুরু হয়। মূলত, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা এবং মনুর পোষ্য কুকুরের কমন পার্কিং এলাকায় মলত্যাগ করা নিয়ে পরমজিতের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার ঝামেলা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সম্প্রতি পার্কিং এলাকার একটি ভাঙা গেট মেরামত করা নিয়ে পরমজিতের ছেলে শৌর্যের সঙ্গে মনুর বচসা হয়। অভিযোগ, শৌর্যকে অপমান করে মনু মন্তব্য করেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হলে বাবাকে পাঠাতে হবে। এর পরেই বাবাকে বিষয়টি জানান শৌর্য।
পুলিশের সামনেই খুনের হুমকি, তবু মীমাংসা!
ছেলের অভিযোগ নিয়ে অঙ্খির পুলিশ ফাঁড়িতে যান পরমজিৎ। সেখানে ডেকে পাঠানো হয় মনুকেও। পুলিশ সূত্রের দাবি, আধিকারিকদের সামনেই পরমজিৎকে সেদিন রাতের মধ্যে খুন করার হুমকি দেন তিনি। তবে পুলিশ ফাঁড়িতে প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেওয়ার পরেও কেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গাড়ি সরানোর নাম করে ডেকে ১৫ রাউন্ড গুলি
শুক্রবার রাতে পার্কিংয়ের বিবাদ মেটানোর কথা বলে পরমজিৎকে নিচে ডাকেন মনু। ছেলের সঙ্গে সেখানে যান পরম। সেখানে ফের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ঈশ্বরের উপর তোর এত বিশ্বাস, এ বার সরাসরি তাঁর কাছেই পাঠিয়ে দিই।’ অভিযোগ, এর পরেই পরমজিৎ ও তাঁর ছেলে শৌর্যকে লক্ষ্য করে প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলি চালান তিনি। তার মধ্যে ন’টি গুলি লাগে পরমজিতের শরীরে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। গুলি থেকে বাঁচতে শৌর্য গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নেন। তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। কোনওক্রমে বেঁচে যান তিনি।
ঘটনার পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মনু। শনিবার ফরিদাবাদের ডিএলএফ চকের কাছে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পরমজিতের ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে মনু, তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের হয়েছে।