ইডি সুপারকপ নয়, স্পষ্ট বার্তা কোর্টের
এই সময়: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি–র ভূমিকা নিয়ে এ বার প্রশ্ন তুলল কর্নাটক হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কংগ্রেস নেতা কেওয়াই নানজে গৌড়ার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ ও টাকা পাচারের মামলায় ইডি যে তদন্ত চালাচ্ছিল, তা–ও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।সম্প্রতি এই মামলায় বিচারপতি এমআই অরুণের বেঞ্চ ইডির তদন্ত খারিজ করতে গিয়ে তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘ইডি কোনও সুপারকপ নয় যে, তাদের নজরে যা কিছু আসবে সেই সমস্ত মামলাতেই তারা তদন্ত করবে।’
আদালতের বক্তব্য, কোনও একটি মূল মামলা তদন্তাধীন থাকলে তবেই পিএমএলএ–র আওতায় এই সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধের তদন্ত করতে পারে ইডি। বিচারপতি অরুণের ব্যাখ্যা— ‘ইডি-র ক্ষমতা সরাসরি বা মৌলিক নয়, বরং তা অন্য একটি মূল অপরাধের উপরে নির্ভরশীল। কেবল আর্থিক তছরুপের সন্দেহের বশে ইডি নিজে থেকে কোনও তদন্ত শুরু করতে পারে না। যদি কোনও মূল অপরাধেরই অস্তিত্ব না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে পিএমএলএ-র আওতায় কোনও আইনি প্রক্রিয়া চালানো যায় না। অর্থাৎ, মূল মামলাটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি রেহাই পেয়ে যান বা মামলাটি শেষ হয়ে যায়, তবে পিএমএলএ-র অধীনে চলা মামলাও আর টিকতে পারে না।’ সম্প্রতি মালুর ল্যান্ড গ্রান্ট কমিটির একটি কেলেঙ্কারির মামলায় কংগ্রেস নেতা গৌড়া–সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইডি। নিম্ন আদালতে এই জমি কেলেঙ্কারির মামলাটি খারিজ হয়ে গেলেও ইডি ওয়াইবি অশ্বত্থনারায়ণন নামে এক ব্যক্তির বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ফেরত দেয়নি এবং উল্টে লোকায়ুক্তের কাছে একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করে— এমন যুক্তিতে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ— ‘রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলা দেখা রাজ্য সরকারেই দায়িত্ব, কেন্দ্রের নয়। আইনে অনেক চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ইডি সুপারকপ নয় যে, তারা যে কোনও মামলার তদন্ত করতে পারে।’