Samvat 2083-তে রুপোয় বড় লাভের ইঙ্গিত, দীপাবলিতে সোনার লক্ষ্যও জানাল Religare

মুম্বই: দীপাবলিতে সোনা বা রুপো কেনা ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। অনেকের কাছে এটি শুভ সূচনার প্রতীক, আবার বিনিয়োগকারীদের কাছে মূল্যবান ধাতু দুটি সম্পদ সুরক্ষিত রাখা এবং পোর্টফোলিওর ঝুঁকি কমানোর অন্যতম মাধ্যম। তবে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ওঠানামার পর Samvat 2083-তে কোন ধাতুতে বিনিয়োগ বেশি লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে Diwali 2026 রিপোর্টে সোনা ও রুপোর সম্ভাব্য দাম, বিনিয়োগের উপযুক্ত স্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল জানিয়েছে Religare Broking। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই ধাতুতেই আগামী দিনে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আগে নির্দিষ্ট দাম ও ঝুঁকির স্তর মাথায় রাখা জরুরি।
সোনার দামে ওঠানামার পিছনে কোন কারণ?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ৫,৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগের চাহিদা এবং সুদের হার কমার প্রত্যাশা সেই বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুনাফা তুলে নেওয়া, লিভারেজড পজিশন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার, বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সোনার দামে সংশোধন দেখা যায়।
এক্ষেত্রে মার্কিন Federal Reserve-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যায়। অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে দুই নীতিনির্ধারক আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন সুদের হার ও বন্ডের ইল্ড বেশি থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। Religare Broking-এর মতে, উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগমূল্য বাড়বে এবং স্বল্পমেয়াদে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত হতে পারে।
এর পাশাপাশি শক্তিশালী মার্কিন ডলারও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের গোড়া পর্যন্ত US Dollar Index বছরের শুরু থেকে প্রায় ৩.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের দাম বাড়লে অন্য মুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপও রয়েছে। আগস্টে ৩.৫ শতাংশ থাকার পর সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ভিত্তিতে দেশটির সামগ্রিক CPI মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশ হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেনাকাটা
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত সোনার বাজারে একদিকে যেমন নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে।
Religare Broking-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণত সোনার নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আকর্ষণ বাড়ায়। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সুদের হার দীর্ঘদিন উঁচুতে থাকতে পারে। ফলে সোনার দামের উপর বিপরীতমুখী প্রভাব তৈরি হয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদা দামকে সমর্থন দিতে পারে। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ৫৭ টন সোনা কিনেছিল। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সেই পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৯ টন। অর্থাৎ, প্রথম ছ’মাসে মোট কেনাকাটা প্রায় ৩৪৬ টনে পৌঁছেছে।
এছাড়া তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিশ্বজুড়ে Gold ETF-এ রেকর্ড ৩০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, যার পরিমাণ প্রায় ২১১ টন সোনা। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ETF থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রবাহ বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
সোনায় কত দামে বিনিয়োগের পরামর্শ Religare-এর?
Religare Broking-এর রিপোর্টে দেশীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার জন্য ১,৩০,০০০ থেকে ১,৩৫,০০০ টাকার মধ্যে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বা Accumulation-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
| সূচক | সোনার দাম |
| বিনিয়োগের পরিসর | ১,৩০,০০০-১,৩৫,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম |
| প্রথম লক্ষ্য | ১,৫০,০০০ টাকা |
| দ্বিতীয় লক্ষ্য | ১,৫৮,০০০ টাকা |
| গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট/ঝুঁকির স্তর | ১,২১,০০০ টাকা |
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিসর ৩,৬৬৫ থেকে ৩,৮০৫ ডলার। প্রথম লক্ষ্য ৪,২৩০ ডলার এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য ৪,৪৫৫ ডলার। গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট বা ঝুঁকির স্তর ৩,৪১০ ডলার।
Religare-এর মতে, দেশীয় বাজারে সোনার দাম ১,২১,০০০ টাকার নীচে নেমে গেলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দুর্বল হয়ে পড়বে।
রুপোয় কতটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে ব্রোকারেজ?
সোনার পাশাপাশি রুপোর ক্ষেত্রেও আশাবাদী Religare Broking। সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, দেশীয় বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দাম ১,৫০,০০০ থেকে ১,৬৩,০০০ টাকার মধ্যে থাকলে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
| সূচক | রুপোর দাম |
| বিনিয়োগের পরিসর | ১,৫০,০০০-১,৬৩,০০০ টাকা প্রতি কেজি |
| প্রথম লক্ষ্য | ২,১৭,০০০ টাকা |
| দ্বিতীয় লক্ষ্য | ২,৫৫,০০০ টাকা |
| গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট/ঝুঁকির স্তর | ১,০৯,০০০ টাকা |
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপোর বিনিয়োগের পরিসর ৪১.৫ থেকে ৪৫ ডলার। প্রথম লক্ষ্য ৬০ ডলার এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য ৭০ ডলার। গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ৩০ ডলার।
ব্রোকারেজের মতে, রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১,০৯,০০০ টাকার নীচে নেমে গেলে ইতিবাচক প্রবণতা দুর্বল হয়ে পড়বে।
সোনা না রুপো, কোনটি বেছে নেবেন?
Religare-এর দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, দুই ধাতুতেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের ধরন এবং ঝুঁকির বিষয়টি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। সোনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেনাকাটা, Gold ETF-এ বিনিয়োগ এবং নিরাপদ সম্পদের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে, রুপোর ক্ষেত্রেও নিজস্ব বাজারগত পরিস্থিতি এবং চাহিদার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে হবে।
Religare Broking জানিয়েছে, আগামী দিনে সোনার দামের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে বিনিয়োগের চাহিদা। Gold ETF-এ অর্থের প্রবাহ, খুচরো বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাজারকে প্রভাবিত করবে।
তবে এই লক্ষ্যমাত্রাগুলি ব্রোকারেজের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস, নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি নয়। বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত সতর্কতা: এখানে দেওয়া মতামত ও লক্ষ্যমাত্রা Religare Broking-এর বিশ্লেষণভিত্তিক। এগুলি কোনও নিশ্চিত বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিবন্ধিত আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business