iPhone 18 Pro-তে স্টোরেজ বাড়াতে তিন গুণ পর্যন্ত দাম নিচ্ছে Apple, কত লাভ সংস্থার?

মুম্বই: iPhone কেনার সময় বেশি স্টোরেজের মডেল বেছে নিলে গ্রাহকদের অনেকটাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। এবার Apple-এর iPhone 18 Pro সিরিজের স্টোরেজ আপগ্রেড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। The Wall Street Journal-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্টোরেজের জন্য Apple গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা নিচ্ছে, তার তুলনায় মেমরি উপাদান কিনতে সংস্থার খরচ অনেকটাই কম। বিশেষ করে ১TB এবং ২TB মডেলের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের গ্রস প্রফিট করছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫৬GB থেকে ১TB স্টোরেজে আপগ্রেড করতে Apple-এর অতিরিক্ত খরচ প্রায় ১৯২ ডলার। অথচ এই পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬০০ ডলার বেশি। অর্থাৎ শুধু স্টোরেজ আপগ্রেড থেকেই আনুমানিক ৪০৮ ডলার গ্রস প্রফিট করছে সংস্থা।
১TB স্টোরেজে Apple-এর লাভ কত?
iPhone 18 Pro-র বিভিন্ন স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে Apple-এর অতিরিক্ত খরচ এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ১TB মডেলে এই ব্যবধান বেশি।
The Wall Street Journal-এর হিসাব অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের iPhone 17 Pro-র তুলনায় iPhone 18 Pro-তে অতিরিক্ত স্টোরেজের উপাদান কেনার খরচ বেড়েছে। কিন্তু Apple আপগ্রেডের দামও বাড়িয়েছে। ফলে কিছু কনফিগারেশনে সংস্থার গ্রস প্রফিট আরও বেড়েছে।
| স্টোরেজ আপগ্রেড | Apple-এর আনুমানিক অতিরিক্ত খরচ | গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচ | আনুমানিক গ্রস প্রফিট |
| ২৫৬GB থেকে ১TB | ১৯২ ডলার | ৬০০ ডলার | ৪০৮ ডলার |
| ১TB থেকে ২TB | ৪৫০ ডলার | ১,২০০ ডলার | ৭৫০ ডলার |
এই হিসাব অনুযায়ী, ১TB থেকে ২TB স্টোরেজে আপগ্রেড করলেই Apple-এর আনুমানিক গ্রস প্রফিট দাঁড়াচ্ছে ৭৫০ ডলার।
তবে এই অঙ্ককে সংস্থার নিট লাভ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ এর মধ্যে অন্যান্য উৎপাদন, বিপণন, পরিবহণ এবং পরিচালন খরচের হিসাব অন্তর্ভুক্ত নেই।
৫১২GB মডেলে লাভের অঙ্ক কিছুটা আলাদা
৫১২GB স্টোরেজের ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। iPhone 17 Pro-তে অতিরিক্ত স্টোরেজের জন্য Apple-এর আনুমানিক খরচ ছিল ১৫ ডলার। অথচ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হত ২০০ ডলার বেশি।
iPhone 18 Pro-তে একই আপগ্রেডের জন্য অতিরিক্ত উপাদান খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৬ ডলার। ফলে এই কনফিগারেশনে সংস্থার গ্রস প্রফিটের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, iPhone 17 Pro-তে স্টোরেজের আনুমানিক খরচের তুলনায় প্রায় ১,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম নেওয়া হত। নতুন প্রজন্মে সেই মার্কআপ কমলেও বেশি স্টোরেজের মডেল থেকে Apple এখনও উল্লেখযোগ্য আয় করছে।
তবে সংস্থার মোট উপাদান খরচের মধ্যে RAM-এর জন্য ঠিক কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেই হিসাব বিশ্লেষণে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
iPhone 18 Pro-র স্টোরেজ অনুযায়ী দাম কত?
আমেরিকার বাজারে iPhone 18 Pro-র ২৫৬GB মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ১,১৯৯ ডলার থেকে। স্টোরেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
| স্টোরেজ | আমেরিকায় দাম | ২৫৬GB মডেলের তুলনায় অতিরিক্ত |
| ২৫৬GB | ১,১৯৯ ডলার | মূল দাম |
| ৫১২GB | ১,৩৯৯ ডলার | ২০০ ডলার |
| ১TB | ১,৭৯৯ ডলার | ৬০০ ডলার |
| ২TB | ২,৩৯৯ ডলার | ১,২০০ ডলার |
ভারতের বাজারে স্টোরেজ আপগ্রেডের জন্যও গ্রাহকদের বেশ মোটা টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ২৫৬GB থেকে ৫১২GB মডেলে যেতে অতিরিক্ত ২৫,০০০ টাকা দিতে হয়। ৫১২GB থেকে ১TB-তে আপগ্রেডের জন্য আরও ৫০,০০০ টাকা খরচ করতে হবে। আর ১TB থেকে ২TB মডেল বেছে নিলে অতিরিক্ত ৭৫,০০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
স্টোরেজ আপগ্রেড Apple-এর আয়ের বড় উৎস
প্রযুক্তি শিল্পে মেমরি উপাদানের দাম বাড়ায় স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। কিন্তু Apple-এর ক্ষেত্রে বেশি স্টোরেজের মডেলগুলির দাম নির্ধারণের কৌশল সংস্থাকে উল্লেখযোগ্য গ্রস প্রফিট এনে দিচ্ছে বলে WSJ-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে যাঁরা ফোনে বেশি ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখেন, তাঁদের বেশি স্টোরেজের মডেল কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। ফলে প্রিমিয়াম iPhone কেনার পাশাপাশি স্টোরেজ আপগ্রেডও Apple-এর ব্যবসায়িক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ iPhone 18 Pro-র বেশি স্টোরেজের মডেল কিনলে শুধু মেমরির জন্যই বড় অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। আর সেই আপগ্রেড থেকেই সংস্থার আয় বাড়ছে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel