মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই চলবে ফোন! স্যাটেলাইটে সরাসরি যুক্ত হবে স্মার্টফোন

ভারতে মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। (Satellite Connectivity)শিগগিরই আপনার স্মার্টফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। আর তখন মোবাইল টাওয়ারের ওপর…
ভারতে মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। (Satellite Connectivity)শিগগিরই আপনার স্মার্টফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। আর তখন মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যাবে। টেলিয়োগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই সম্প্রতি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সাধারণ স্মার্টফোনেই স্যাটেলাইট সংযোগ সম্ভব হবে। অতিরিক্ত কোনো হার্ডওয়্যার লাগবে না। শুধু ভবিষ্যতের ফোনগুলোতে প্রয়োজনীয় মডিউল যোগ করলেই চলবে। ট্রাই সরকারকে অনুরোধ করেছে, যাতে ফোন নির্মাতারা এল-ব্যান্ড ও এস-ব্যান্ড সমর্থনকারী প্রযুক্তি নতুন মডেলগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করে।
আরও দেখুনঃ রাহুলের ইশারায় রাস্তায় নামবেন ৪০ লাখ যুবক! কংগ্রেসকে তোপ বিজেপির
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, দূরবর্তী এলাকা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও যোগাযোগ বজায় থাকবে। বন্যা, ঝড় বা ভূমিকম্পে যখন মোবাইল টাওয়ার ভেঙে পড়ে, তখনও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কল বা মেসেজ পাঠানো যাবে। নেটওয়ার্ক ডেড জোন বলে কিছু থাকবে না। পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্র উপকূলের মতো জায়গায়ও সিগন্যাল পাওয়া যাবে।
টেলিকম অপারেটরদের জন্যও সুবিধা অনেক। (Satellite Connectivity)তাঁদের আর ব্যয়বহুল টাওয়ার বানিয়ে সব জায়গায় কভারেজ দিতে হবে না। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ভাড়া নিয়ে সেবা দিতে পারবেন। ট্রাই স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার নামে নতুন এক ধরনের লাইসেন্সের প্রস্তাব দিয়েছে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ হবে বিশ বছর। পরে আরও বিশ বছর বাড়ানো যাবে।
স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাই। মোবাইল স্যাটেলাইট সার্ভিসের জন্য নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অপারেটরদের নিজস্ব মোবাইল স্পেকট্রামও স্যাটেলাইট সংযোগে কাজে লাগানো যাবে। ৬০০ মেগাহার্জ থেকে ২১০০ মেগাহার্জ পর্যন্ত কয়েকটি ব্যান্ড এই কাজে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছানো সহজ হবে। কৃষক, ছাত্র-ছাত্রী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কাজও দ্রুততর হবে। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। স্যাটেলাইট সংযোগের গতি এখনও স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কের মতো দ্রুত নয়। খরচও প্রাথমিক পর্যায়ে বেশি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চলছে। ভারত যদি দ্রুত এগোয়, তাহলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। জিও, এয়ারটেলের মতো অপারেটর এবং স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী।