বিমানবন্দরে নেমে গাড়ি পেতে হয়রানি যাত্রীদের
এই সময়: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর (ইডি) হিসেবে অবসর নিয়েছেন কল্যাণ চৌধুরী। বাড়ি বেলঘরিয়ায়। ছেলে–মেয়ে মুম্বই–বেঙ্গালুরু থাকেন। তাই প্রায়শই সস্ত্রীক যাতায়াত করতে হয়। আর প্রতিবারেই কলকাতায় নেমে বাড়ি ফেরার গাড়ি পেতে হয়রান হতে হয়। তাঁর কথায়, ‘খারাপ লাগে এটা ভেবে যে বাইরের থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের আমাদের শহর সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।’
কেন এই হয়রানি?
কল্যাণের কথায়, ‘প্রতিবারেই দেড় থেকে দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। উবের বা ওলা বুকিং নিলেও বেশিরভাগ সময় আসেই না। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাতিল করে দেয়। কেউ ফোন করে বলেন, দূরে রয়েছেন। তর্ক করলে পাল্টা হুমকিও শুনতে হয়েছে।’ প্রাক্তন ইডি–র অভিযোগ, কেউ আবার অতিরিক্ত পিক–আপ চার্জ চান। অথচ, মুম্বই বা বেঙ্গালুরু পৌঁছে ৪০–৫০ কিলোমিটার রাস্তা অনায়াসে পৌঁছে যান তিনি।
অভিযোগ, কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরে একশ্রেণির দালালও থাকেন গাড়ি নিয়ে। তাঁরা ইচ্ছে মতো টাকা দাবি করেন। কল্যাণ বলেন, ‘তিতিবিরক্ত হয়ে একবার এয়ারপোর্ট ডিরেক্টরকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু, ওঁর কিছু করার নেই। এটা পুলিশ কন্ট্রোল করে।’
বিমানবন্দরের অফিসারদের একাংশের দাবি, এর আগে বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা পুলিশের আশকারায় এই দালাল শ্রেণির রমরমা বাড়ে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পুলিশে বেশ কিছু বদলি হয়েছে বিমানবন্দরে। আলাদা করে শুধু বিমানবন্দরের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে এক সিনিয়র অফিসারকে। পুলিশের দাবি, আগের পরিস্থিতি বদলাতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইতালি থেকে শহরে নেমেছেন অরূপ কর্মকার। তুরিনের হোটেলে চাকরি করেন। তাঁরও অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। জানান, এক বন্ধু ছিলেন সঙ্গে। ছিল বেশ কিছু মালপত্র। তাঁকেও বিমানবন্দরের বাইরে প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। একের পর এক অ্যাপ–ক্যাব ক্যানসেল করার পরে শেষে বিমানবন্দরে কর্মরত এক বন্ধুর সাহায্যে ৯০০ টাকা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বারাসতে পৌঁছেছেন। তাঁর কথায়, ‘বাড়িতে নামার সময়ে ক্যাব চালক আরও ২০০ টাকা অতিরিক্ত চান। আমি আর তর্ক বাড়াইনি।’