বাগডোগরায় সেনাকর্মীদের সঙ্গে দীপাবলি, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রশংসায় রাজনাথ

নয়াদিল্লি: দীপাবলির প্রাক্কালে বাগডোগরা এয়ারফিল্ডে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) জওয়ানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো দুর্যোগের মোকাবিলায় বিমান…
নয়াদিল্লি: দীপাবলির প্রাক্কালে বাগডোগরা এয়ারফিল্ডে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) জওয়ানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো দুর্যোগের মোকাবিলায় বিমান বাহিনীর জওয়ানদের অসামান্য সাহস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাফ কথা, দেশের বীর ‘এয়ার ওয়ারিয়র্স’ বা বিমান যোদ্ধাদের অবদান কেবল দেশেই নয়, গোটা বিশ্বে প্রশংসিত।
সাহস ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর
জওয়ানদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শৃঙ্খলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির থেকেও জওয়ানদের সাহস ও শৃঙ্খলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
“প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, যদি আমাদের জওয়ানদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সাহস না থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ নিষ্ফল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের শৃঙ্খলার জন্যই পরিচিত। এই শৃঙ্খলাটাই একজন সাধারণ সেনাকে অসাধারণ যোদ্ধায় রূপান্তরিত করে,” বলেন রাজনাথ সিং।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষা করা কিংবা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকে উল্লেখ করে তিনি জানান, জওয়ানদের এই নিষ্ঠাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ড্রোন পরিচালনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যুদ্ধের নতুন পদ্ধতিগুলি আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে জওয়ানদের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতার কথা তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ স্টার্ট-আপ ও শিল্পগুলি এখন ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব সরঞ্জাম ভারতীয় জওয়ানরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন বলেও তিনি গর্ব প্রকাশ করেন।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা
জওয়ানদের নৈতিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁরা যেখানেই মেতায়েন থাকুন না কেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। জওয়ানদের পোশাক, ভাষা এবং সংযমের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মনে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে।
বাগডোগরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের সেনার প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ভালোবাসা রক্ষা করার দায়িত্ব জওয়ানদেরই।
স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সেনার এই মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হলে শত্রুপক্ষের বিভাজনের চক্রান্ত নস্যাৎ করা সহজ হবে বলেই মত প্রকাশ করেন রাজনাথ সিং।
অসমে অয়েল ইন্ডিয়ার কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২, সংকটজনক ৫
বায়ুদূষণ কমছে না কেন! দিল্লি প্রশাসনের উপর খাপ্পা সুপ্রিমকোর্ট