ব্লু ওয়েভে ভাসছে আমেরিকা! ১৯৭৪ সালের পর সবচেয়ে বড় জয়ের পথে ডেমোক্র্যাটরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্লু ওয়েভে ভাসছে আমেরিকা! ১৯৭৪ সালের পর সবচেয়ে বড় জয়ের পথে ডেমোক্র্যাটরা

Spread the love


ওয়াশিংটন: মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় শক্তির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে…

ওয়াশিংটন: মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় শক্তির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে ডেমোক্র্যাটরা। শুধু ক্ষমতা দখল নয়, প্রতিনিধি পরিষদে আসন জয়ের নিরিখেও দলটি এমন এক সাফল্যের সামনে দাঁড়িয়ে, যা ১৯৭৪ সালের পর আর দেখা যায়নি। ভোট গণনা এখনও শেষ না হলেও ঐতিহাসিক নজির স্পর্শ করতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন মাত্র দু’টি আসন।

৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ৪১০টির ফল ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ২৫৩টি আসন। আগের তুলনায় তাদের আসন বেড়েছে ৪১টি। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ঝুলিতে রয়েছে ১৫৭টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গিয়েছে। বাকি আসনগুলির ফল প্রকাশ হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

১৯৭৪ সালের নজির ভাঙার অপেক্ষা

এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের। ১৯৭৪ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৫টি আসন বাড়িয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। বিপরীতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি।

এবারের ফলও সেই নজিরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ভোটের বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে ১৯৭৪ সালের পর প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ২০২৬ সালের নির্বাচন ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।

রিপাবলিকানদের ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটদের জয়

এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের বিশেষ দিক হল, জয়ের পরিধি। শুধু নিজেদের শক্তিশালী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি দলটি। বরং এমন ৩০টিরও বেশি কেন্দ্রে জয় পেয়েছে, যেখানে আগে রিপাবলিকান প্রার্থীরা জিতেছিলেন। এর মধ্যে এমন কিছু এলাকাও রয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নিজেদের সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল রিপাবলিকানরা। কয়েকটি রাজ্যে সেই উদ্দেশ্যে নতুন করে আসন বিন্যাসও করা হয়। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। বরং সুবিধাজনক বলে বিবেচিত কিছু কেন্দ্রেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

ভোটের সামগ্রিক ছবিতেও রিপাবলিকানদের পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। রয়টার্সের প্রায় ২,১০০টি কাউন্টির ভোট বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ হওয়া এলাকাগুলির ৯৯ শতাংশেই আগের তুলনায় সমর্থন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে ওই এলাকাগুলিতে তাদের ভোটের হার গড়ে ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

সেনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা, চাপে ট্রাম্প

প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সেনেটেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। অন্তত সাতটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসনে জয় পেয়ে সেনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। দুই নির্দল সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকায় আসনসংখ্যার হিসাবে তাদের শক্তি দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৪-৪৪।

এর অর্থ, ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময় এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যেতে চলেছে। ফলে আগামী দুই বছর হোয়াইট হাউসের পক্ষে আইন প্রণয়নের কাজ অনেক কঠিন হতে পারে।

সংসদের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া, সরকারি খরচের হিসাব খতিয়ে দেখা এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। রিপাবলিকান সরকারের একাধিক প্রস্তাব আটকে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে, তবুও কংগ্রেসে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা তৈরি করতে পারে।

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে পারেন হাকিম জেফ্রিস

এই রাজনৈতিক পালাবদলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হাউসের নেতৃত্ব। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হতে পারেন। তা হলে তিনিই হবেন আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।

তবে বিপুল জয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দলের প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী, দুই শিবিরই এই সাফল্যের কৃতিত্ব দাবি করছে। ক্ষমতা হাতে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করাই হবে দলের বড় পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মাঝপথে এই নির্বাচন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক ফলের কাছাকাছি পৌঁছে ডেমোক্র্যাটরা এখন শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়, ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যও নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পথে।

মার্কিন সেনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য, মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল

ছাঁটাই নয়, স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব! ফ্রান্সে কর্মীদের বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে মেটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *