প্রেসিডেন্সিতে জিষ্ণুর ‘মন্ত্র’ জাতীয়তাবাদই
এই সময়: বাম-দুর্গ হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বাধায় নিজেদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কে বসাক অডিটোরিয়ামে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
এবিভিপি-র দাবি, ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটছে। অন্যদিকে এসএফআইয়ের অভিযোগ, জাতীয়তাবাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্সি দখলের চেষ্টা চলছে।
এ দিনের সেমিনারে আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন আরএসএস-এর পূর্ব ভারতের প্রচার প্রমুখ তথা সাহা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী জিষ্ণু বসু। তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে প্রেসিডেন্সি (তৎকালীন হিন্দু কলেজ) জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক অন্যতম আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছিল এবং একটি গান থেকে কীভাবে ‘বন্দে মাতরম’ ক্রমশ স্বাধীনতা সংগ্রামের রণধ্বনিতে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী রাজনারায়ণ বসুর লেখা প্রবন্ধ এবং ঠাকুরবাড়ির ‘হিন্দু মেলা’ থেকে শুরু করে এই ক্যাম্পাসের স্নাতক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্ম—গোটা বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরেন জিষ্ণু। তিনি জানান, ১৯০৫–এ বঙ্গভঙ্গের সময়ে শ্রী অরবিন্দ এটা গোটা দেশে ছড়িয়ে দেন।
পাশাপাশি, তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের ভাবধারা আন্দোলন এবং ভগিনী নিবেদিতার কথা। নিবেদিতার নকশা করা পতাকার ‘বজ্র’ চিহ্নকে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কীভাবে তাঁর বসু বিজ্ঞান মন্দিরের প্রতীকে স্থান দিয়েছিলেন, সেই ইতিহাসও স্মরণ করান তিনি। ব্রিটিশদের বৈষম্যের প্রতিবাদে জগদীশচন্দ্র বসুর বিনা বেতনে শিক্ষাদানের ঘটনাকে ‘প্রকৃত জাতীয়তাবাদ’ বলে আখ্যা দেন জিষ্ণু।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত এই ক্যাম্পাসে বিনা বাধায় অনুষ্ঠান করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এবিভিপি। সংগঠনের প্রেসিডেন্সি ইউনিটের সভাপতি মৃদুল বণিক একে বড় সাফল্য হিসেবে দেখলেও, এসএফআই ইউনিটের সম্পাদক ঊষশ্রী মিত্রের দাবি, জাতীয়তাবাদ এবং প্রেসিডেন্সির ইতিহাসকে সুকৌশলে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে নিজেদের জমি শক্ত করতে চাইছে এবিভিপি।