আন্তর্জাতিক চাপেও পরিকাঠামোয় ১২.২ লক্ষ কোটি খরচের লক্ষ্য কেন্দ্রের - 24 Ghanta Bangla News
Home

আন্তর্জাতিক চাপেও পরিকাঠামোয় ১২.২ লক্ষ কোটি খরচের লক্ষ্য কেন্দ্রের

Spread the love


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর (Infrastructure Investment) পথে হাঁটছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের তরফে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সরকারি দফতরকে মূলধনী ব্যয় বা Capital Expenditure (Capex) বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে নির্ধারিত বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের খবর, অর্থ মন্ত্রক বিভিন্ন দফতরকে তাদের বার্ষিক Capex লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ পুরোপুরি গতি পাওয়ার আগেই সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধির চালিকাশক্তি বজায় রাখতে চাইছে কেন্দ্র।

FY27-তে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকার Capex লক্ষ্যমাত্রা

২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবর্ষের Revised Estimates বা সংশোধিত ব্যয়ের হিসাব তৈরির জন্য গত এক মাসে বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করেছে অর্থ মন্ত্রক। সেখানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং অর্থবর্ষের বাকি সময়ে পরিকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভর্তুকির খরচ বাড়লেও মূলধনী ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ বজায় রাখবে অর্থ মন্ত্রক। প্রয়োজনে অন্য কিছু খাতে ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। তবে ভালো পরিকাঠামো প্রকল্পের বরাদ্দে কাটছাঁট করার পরিকল্পনা নেই।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রের মূলধনী ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৭ শতাংশ বেড়ে ৬.৫৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে Capex কমেছে। এর আগে কয়েক মাসে ব্যয় বৃদ্ধির পর এই নিম্নগতি দেখা যায়।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের মোট Capex লক্ষ্যমাত্রা ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে মূলধনী ব্যয় ১৬.২ শতাংশ বাড়াতে হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগের আগে সরকারি ব্যয়ের উপর জোর

গত ২ নভেম্বর মুম্বইয়ে HSBC-র একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই পরিকাঠামোয় সরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হবে।

তাঁর বক্তব্য, দেশের বৃদ্ধির কৌশলে Capex অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি ক্ষেত্র যত দিন না নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বা নতুন মূলধনী বিনিয়োগ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে, তত দিন সরকারি বিনিয়োগের গতি ধরে রাখা প্রয়োজন।

মহামারির পর দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বৃদ্ধিতে সরকারি পরিকাঠামো বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। রাস্তা, রেলপথ, বন্দর এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের ফলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি হয়। নির্মাণকাজে কর্মসংস্থান বাড়ে, পণ্য পরিবহণের খরচ কমে এবং পরোক্ষভাবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হয়।

২০২৫-২৬ সালের Economic Survey অনুযায়ী, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ করা প্রতি ১ টাকা মাঝারি মেয়াদে অর্থনীতিতে ২.৫ থেকে ৩.৫ টাকার সুফল তৈরি করতে পারে।

এক দশকে Capex বরাদ্দ বেড়েছে ছয় গুণেরও বেশি

গত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের মূলধনী ব্যয়ের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাক্‌-মহামারি ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে GDP-র ১.৭ শতাংশ ছিল কেন্দ্রের Capex বরাদ্দ। বর্তমানে তা বেড়ে GDP-র ৩.১ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যয়ের বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। Icra-র প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে কেন্দ্রের Capex বৃদ্ধির হার ছিল ২৩.৭ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৮ শতাংশে। তাঁর আশঙ্কা, এই নিম্নগতি GDP বৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কমার ইঙ্গিত

চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। তবে Department of Economic Affairs-এর সাম্প্রতিক মাসিক পর্যালোচনায় Nowcasting Model-এর ভিত্তিতে অনুমান করা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার কমে ৭.৩৫ শতাংশ হতে পারে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেশি থাকায় অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও ভারতীয় অর্থনীতির ভিত যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

International Monetary Fund এবং World Bank-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ বা তার বেশি থাকতে পারে। ফলে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতির তকমা ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।

রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত ২.১৮ লক্ষ কোটি টাকা

শুধু কেন্দ্রীয় প্রকল্প নয়, রাজ্যগুলির পরিকাঠামো বিনিয়োগও বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র। সেই উদ্দেশ্যে গত এক সপ্তাহে করের অংশ বণ্টনের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে মোট ২.১৮ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

৩১ অক্টোবর নিয়মিত মাসিক বরাদ্দের অতিরিক্ত ১.০৯ লক্ষ কোটি টাকা রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দীপাবলির আগে নভেম্বর মাসের আরও ১.০৯ লক্ষ কোটি টাকার কিস্তি নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থ বণ্টনে উত্তরপ্রদেশ পেয়েছে প্রতিটি কিস্তিতে ১৯,২০৮ কোটি টাকা। বিহার পেয়েছে ১০,৮৪৫ কোটি, মধ্যপ্রদেশ ৮,০১০ কোটি, ওড়িশা ৪,৮১৯ কোটি এবং অসম ৩,৫৫২ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের বরাদ্দ ৭,০২২ কোটি এবং তামিলনাড়ুর ৪,৪৬৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার সুদমুক্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। এই অর্থ দিয়ে স্থায়ী সরকারি সম্পদ এবং পরিকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, বড় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং নির্বাচিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের Capex-ও লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই সংস্থাগুলির জন্য নির্ধারিত ৮.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার ৫১ শতাংশ ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকারি বিনিয়োগকে বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে কেন্দ্র।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *