‘স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আমেরিকান জনগণ’, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল বের হতেই ট্রাম্পকে কটাক্ষ ওবামার
মিড-টার্ম নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের। নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। তারে পরেই ট্রাম্প প্রশাসনকে নিশানা করতে শুরু করেছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। নির্বাচনের ফলাফলকে হাতিয়ার করে ট্রাম্পের রাজনীতির সমালোচনা করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই নির্বাচনে ‘আমেরিকান জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে’ বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও। তবে,এর পরেও পিছিয়ে আসতে নারাজ ট্রাম্প। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানালেও যে কোনও সিদ্ধান্তে তাঁর ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হতে আরও দু’বছর। তার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। আমেরিকার মিড-টার্ম ইলেকশনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে সরিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
এর পরে ট্রাম্পকে নিশানা করেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘আমেরিকান জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা এমন রাজনীতি চান, যা মানুষকে বিভক্ত করার পরিবর্তে একত্রিত করবে।’ ওবামা জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এমনকী, যে সব এলাকায় জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করা হয়েছিল, সেখান থেকেও ভালো ফল করেছেন অনেকে। তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সামাজিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও জনসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তাঁদের একসূত্রে বেঁধেছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
Tonight, the American people sent a clear message — they want a politics that brings people together rather than divides them, and leaders who offer concrete solutions to the challenges they face.
These results were only possible because outstanding candidates stepped forward in every region of the country — including in areas once considered long shots. They came from different backgrounds and represented a range of political perspectives, but were united by shared values, a belief in public service, and a commitment to putting the people of their districts and states first.
We also owe a debt of gratitude to the thousands of election officials and volunteers from both parties who helped ensure a smooth election and carried out one of the most essential functions of our democracy.
While this administration has another two years in office, our job now is to roll up our sleeves, make changes wherever we have the power to do so, prevent further damage, and lay the groundwork for the future.
— Barack Obama (@BarackObama) November 4, 2026
একই সঙ্গে ওবামা জানান, এরই পাশাপাশি সেখানকার মানুষ এমন নেতৃত্ব চান, যাঁরা সাধারণ মানুষের সামনে থাকা সমস্যাগুলির বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারবেন। নির্বাচনের ফলাফলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্পের বিভাজনমূলক রাজনীতিকেই নিশানা করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা নিয়ে ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করেছেন কমলা হ্যারিসও। একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্পকে নিশানা করেন তিনি।
এই নির্বাচনের পরে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের কাজকর্ম, সব ক্ষেত্রেই এ বার বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে ট্রাম্পকে। যেখানে ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রশাসনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্তগুলি আটকানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও জানিয়েছেন বারাক ওবামা।
President Trump congratulated Democrats on their 2026 midterm victory, telling FOX News: “Congratulations to the Democrats. They did a good job."
Trump holds total veto power over anything Democrats try to pass, which means every piece of legislation for the next two years requires his signature. Democrats need him more than he needs them, government funding, the debt ceiling, and any policy agenda they want to advance all run through the Oval Office.
He grew his vote total from 63 million in 2016 to 74 million in 2020 to over 77 million in 2024. No Republican in history has matched that trajectory.— Donald J Trump Posts TruthSocial (@TruthTrumpPost) November 4, 2026
এ দিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা কোনও আইন পাস করার চেষ্টা করলে তাতে পূর্ণ ভেটো ক্ষমতা রয়েছে তাঁর হাতে। আগামী দু’বছরে যে কোনও আইন কার্যকর করতে হলে তাঁর স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।