সকালের সরোবর-ভাবনায় বিতর্ক, বিকেলেই সুর বদল অগ্নিমিত্রার
এই সময়: সকালে ছাড়পত্রের ঘোষণা, বিকেল হতে না হতেই সুর বদল। সৌজন্যে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এ বছর ছটপুজোর জন্য রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরের দরজা হাট করে দেওয়ার ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। অগ্নিমিত্রার দাবি ছিল, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া নিয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাঁর এই ‘ভাবনা’র কথা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন বলে সরব হন পরিবেশপ্রেমীরা। তার পরে এদিন বিকেলেই সরোবর ভাবনা নিয়ে সুর বদলান অগ্নিমিত্রা। নেহাতই অনুমতি না মিললে বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ন’বছর ধরে আদালতের নির্দেশে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ। তবে তারই মধ্যে জোর করে সরোবরে ঢুকে পড়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনই রাতভর জলাশয় পাহারা দেওয়াও চালু হয়েছে।
রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বুধবার সকালে প্রশ্ন করা হয় অগ্নিমিত্রাকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ছটপুজো করতে দেওয়া হতো না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভাবছি, এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেব। কেন দেব না? ওখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন!’ তিনি এ-ও বলেছিলেন, ‘গ্রিন ট্রাইবুনালের (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল বা এনজিটি) সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমি নিশ্চিত, কোনও না কোনও পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা ওখানে ময়লা করব না, করতেও দেব না।’
সকালে মন্ত্রীর ‘ভাবনা’ প্রকাশ্যে আসতেই এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পরিবেশকর্মী তথা সবুজ মঞ্চের সম্পাদক নব দত্ত। তিনি বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তো। তার পরে আবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কীসের! এ রকম আবার হয় নাকি!’ আর এক পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘এই মামলা তো বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেখানে মন্ত্রী এনজিটি-র সঙ্গে কী কথা বলবেন। বিচারাধীন বিষয়ে আবার আদালতের সঙ্গে কথা বলা যায় নাকি!’ এ রকম ঘটলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তাঁরা।
আগে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হতো। কিন্তু ছটপুজো মেটার পর ওই এলাকার পরিবেশ দূষণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ দেখাতেন পরিবেশপ্রেমীরা। ঢাকঢোল বাজানোয় যেমন শব্দ দূষণ হত, তেমনই জল দূষণের মাত্রা বৃদ্ধিও চোখে পড়ত। সেই সব বিষয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবেশপ্রেমীরা। চেয়েছিলেন, রবীন্দ্র সরোবরের মতো জাতীয় সরবোবরে বন্ধ হোক ছটপুজো। মামলায় জুড়ে গিয়েছিল সুভাষ সরোবরের প্রসঙ্গও। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ২০১৭ সালে রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এনজিটি। তার পরেও জোর করে সরোবরে ঢুকে কার্যত তাণ্ডব চালায় এক দল লোক। তা নিয়ে পরিবেশ কর্মীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত ২০২০ সালে এনজিটি-র নির্দেশ বহাল রাখে। তৎকালীন তৃণমূল সরকার হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেই মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে এদিন বিকেলে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমি পরিবেশকে সম্মান দিতে ভালবাসি। পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দূষণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’ বিকেলে যোধপুর পার্কে একটি জলাশয় পরিদর্শন করে করার পর মন্ত্রী বলেন, ‘এই জলাশয়টি রবীন্দ্র সরোবরের একদম কাছে। যদি রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি না-পাওয়া যায়, তা হলে দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি জলাশয়ের আমরা ব্যবস্থা রাখছি ছটপুজোর জন্য।’ ওই ঘাটগুলিকে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।