সংসদে ‘ঘুমন্ত’ রাহুল, পোস্টার ঘিরে বাকযুদ্ধ
এই সময়: লোকসভায় বিরোধী বেঞ্চে হাতে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছেন রাহুল গান্ধী — এমন ছবি–সহ পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে বিধাননগরের বহু এলাকা। সঙ্গে লেখা, ‘দেশ কি নেতা অ্যায়সা হো??’ পোস্টারে ইঙ্গিত, সংসদের ভিতরে রাহুল ঘুমোচ্ছেন! কিন্তু কারা তা সাঁটল, মঙ্গলবার এ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দু’ক্ষেত্রেই সুর চড়িয়েছে ‘হাত’ শিবির।
কোনও দল বা সংগঠন পোস্টারের দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রদেশ নেতৃত্বের ধারণা, এর নেপথ্যে বিজেপি–র হাত থাকলেও থাকতে পারে। এ দিন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘এটা রাজনীতি নয়, অসভ্যতা। রাহুল গান্ধী–আতঙ্কে ভুগছে বিজেপি, তাই এই কুৎসিত অসভ্য পোস্টার দেওয়া হয়েছে।’ রাহুল–সহ কংগ্রেস হাইকমান্ডকে নিয়ে এমন পোস্টার সাঁটা বন্ধ না হলে বিধান ভবনও পাল্টা দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কংগ্রেসের কলকাতার নেতারা। পোস্টারের সমালোচনা করেছে মমতা তৃণমূল।
যদিও এ প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র তথা বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষের কটাক্ষ, ‘রাহুল গান্ধী নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন! ঘুমন্ত রাহুল! এই পোস্টার কারা মেরেছে, জানি না। কিন্তু যারা মেরেছে, তারা ঠিক জায়গায়, ঠিক সময়ে পেরেক মেরেছে। ওঁদের দলেরই (কংগ্রেস) কোনও গোষ্ঠী এই কাণ্ড করেছে।’
এ দিকে, ইনস্টা–অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের চেয়ারপার্সন অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিজেপি এবং আরএসএস–বিরোধী পোস্ট করার জন্যই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি। এ ভাবে শাসকের তল্পিবাহক হয়ে সমাজমাধ্যমে আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’ বিজেপির মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরীর পাল্টা বক্তব্য, ‘পুলিশে অভিযোগ করুন, মেটা–কে জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ হতো। রাজ্যে সরকার বদলেছে, এখন কারও কণ্ঠরোধ করা হয় না।’