ভেটো ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে লড়াইয়ের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি একটি লাল ম্যাগা ক্যাপের…
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি একটি লাল ম্যাগা ক্যাপের ছবি পোস্ট করেছেন, যাতে ‘ভেটো’ শব্দটি বড় করে লেখা রয়েছে। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটদের আইন পাস ঠেকানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মজার বিষয় হল, এই পোস্টের কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি ফলাফল গ্রহণ করতে রাজি এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব এবং সম্ভবত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব। কিন্তু তারপরই সেই ভেটো ক্যাপের ছবি পোস্ট করে তিনি ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ ‘বিভাজন চান না মানুষ!’ ট্রাম্পের হারে প্রতিক্রিয়া ওবামার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস দুই কক্ষেই তাঁদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হারিয়েছে, এমনকি কিছু ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী এলাকাতেও। এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দুই বছরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ট্রাম্প (Donald Trump)নিজেও এই পরাজয়ের জন্য নিজেকে দায়ী করেননি। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না। যদি থাকতেন, তাহলে বড় ব্যবধানে জিততেন। নির্বাচনের আগেও তিনি সমর্থকদের বলেছিলেন, তাঁকে ব্যালটে আছে বলে ভান করে ভোট দিতে। এখন ফলাফল এসেছে ভিন্নভাবে।
ভেটো ক্যাপের পোস্টকে অনেকেই তাঁর নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কংগ্রেস পাস করা যেকোনো বিলে ভেটো দিতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা যদি তাঁর নীতির বিরুদ্ধে কোনো আইন আনতে চান, তাহলে তিনি সেটি আটকে দিতে পারবেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ভেটো প্রেসিডেন্টের শক্তিশালী ক্ষমতাগুলোর একটি। তাঁরা পাগলের মতো বিল পাঠাবে, তিনি ভেটো দেবেন। কয়েক মাস পর তাঁরা ফোন করে জিজ্ঞাসা করবে কীভাবে কাজ এগোবে।
এই মনোভাব থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দুই বছর ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলতে পারে। একদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তদন্ত, শুনানি ও নতুন আইন আনার চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প ভেটো ক্ষমতা দিয়ে সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করবেন। সমঝোতার পথ খোলা থাকলেও সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের (Donald Trump)এই পদক্ষেপ তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ জোগাবে। তাঁরা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট এখনও শক্তিশালী এবং ডেমোক্র্যাটদের এজেন্ডা ঠেকাতে পারবেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা। নির্বাচনে জনগণ যে বার্তা দিয়েছে, তা মেনে নিয়ে সহযোগিতার পথে হাঁটা উচিত।