স্বাস্থ্যসাথী-দুর্নীতি: শারদ্বতের বাড়ির ঠিকানাতেও বেনামী চিঠি - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্বাস্থ্যসাথী-দুর্নীতি: শারদ্বতের বাড়ির ঠিকানাতেও বেনামী চিঠি

Spread the love

এই সময়: রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে। আর তার মধ্যেই সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে ওই দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের মালিকরা। শুধু স্বাস্থ্য ভবনেই নয়, মন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানাতেও পৌঁছচ্ছে বেনামী চিঠি। দুর্নীতির অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করছেন পত্রপ্রেরকদের কেউ কেউ। রবিবার সন্ধ্যায় এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথীর দুর্নীতি নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট শনিবার তাঁর হাতে এসেছে।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ২০–২৫ লক্ষ সুবিধাপ্রাপকের নাম স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নথিভুক্ত করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে, এমনই অভিযোগ। ভুয়ো রোগী, চিকিৎসক, জাল সই এবং তৃতীয় পক্ষের বিমা সংস্থা বা থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (টিপিএ)–এর অনৈতিক ও বেআইনি ভূমিকার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের শো-কজ় করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।এই পরিস্থিতিতে সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমস এবং ফেডারেশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম ওনার্স অফ ইন্ডিয়ার মতো দু’টি সংগঠনের প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক রাজীব পান্ডে এবং ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সভাপতি এইচ এম প্রসন্ন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনা ও সরকারের সঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রের সমন্বয় বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজীব পান্ডে বলেন, ‘নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রোগীদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সরকারের সহযোগী হতে চায় বেসরকারি হাসপাতালগুলি। ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির পাশে থাকবে সংগঠন। স্বাস্থ্যসাথী–তে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এমন নার্সিংহোমকে সদস্যপদ দেওয়া হবে না। একই ভাবে লাইসেন্সহীন প্রায় ২০০টই নার্সিংহোমকেও সদস্য করা হবে না। তা ছাড়া, কোনও সদস্য–নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজকর্মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটির সদস্যপদও খারিজ করা হবে। রাজীবের দাবি, ‘৯০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ভালো কাজ করে। কিন্তু ৫ শতাংশের দুর্নীতির বদনাম বাকিদেরও বয়ে বেড়াতে হয়।’

তিনি জানান, ছোট নার্সিংহোমগুলিকে একজোট করে কাজ করার পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে সিঙ্গল উইন্ডো লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করার আবেদনও মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। নিজেদের কাজ ও বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে একটি এফএম চ্যানেল চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *