রেকর্ড গড়বে নাসার ভয়েজার ১, রয়েছে পৃথিবী থেকে এক আলোক-দিন দূরত্বের কাছাকাছি
নাসার (NASA) ‘ভয়েজার ১’ মহাকাশযানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযানটি চলতি মাসের ১৮ তারিখে একটি বড় রেকর্ড গড়তে…
নাসার (NASA) ‘ভয়েজার ১’ মহাকাশযানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযানটি চলতি মাসের ১৮ তারিখে একটি বড় রেকর্ড গড়তে পারে। প্লুটোনিয়াম রেডিওআইসোটোপ দ্বারা চালিত এই মহাকাশযানটি কেবল মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তুই হবে না, বরং এটি ‘এক আলোক-দিন’ দূরত্ব, অর্থাৎ প্রায় ১৬.০৯ বিলিয়ন মাইল (২৫.৮৯ বিলিয়ন কিলোমিটার), অতিক্রম করবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে ‘এক আলোক-দিন’ (আলো একদিনে যে দূরত্ব অতিক্রম করে) দূরত্বে পৌঁছাতে ‘ভয়েজার ১’ মহাকাশযানটির আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি রয়েছে। এটি এমন একটি দূরত্ব, যেখান থেকে একটি রেডিও সিগন্যাল এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে পুরো ২৪ ঘণ্টা সময় নেবে। বর্তমানে এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মাইল (২৪ বিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে।
- ভয়েজার ১ ১৯৭৭ সাল থেকে সৌরজগৎ অন্বেষণ করে চলেছে। বর্তমানে এটি আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে অবস্থান করছে, যা হেলিওপজের বাইরে অবস্থিত – এটি সূর্য থেকে নির্গত শক্তিশালী কণা ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা গঠিত বুদবুদের বাইরের সীমানা।
- যদিও ভয়েজার ১-কে ভয়েজার ২-এর পরে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তবুও দ্রুত গতিপথের কারণে এটি তার যমজ মহাকাশযানটির আগেই গ্রহাণু বেল্ট অতিক্রম করে ফেলে। ১৯৭৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর এটি ভয়েজার ২-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।
- ভয়েজার ১ বৃহস্পতির চারপাশে একটি পাতলা বলয় এবং বৃহস্পতির দুটি নতুন উপগ্রহ-থিবী (Thebe) ও মেটিস (Metis)-আবিষ্কার করে। শনির ক্ষেত্রে, ভয়েজার ১ পাঁচটি নতুন উপগ্রহ এবং একটি নতুন বলয় খুঁজে পায়, যা ‘জি-রিং’ (G-ring) নামে পরিচিত।
- ভয়েজার ১ হলো প্রথম মহাকাশযান যা হেলিওস্ফিয়ার বা সৌর-মণ্ডলীয় সীমানা অতিক্রম করেছে – এটি এমন একটি সীমানা, যেখানে আমাদের সৌরজগতের বাইরের প্রভাব সূর্যের প্রভাবের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভয়েজার ১ হলো মানুষের তৈরি প্রথম বস্তু, যা আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশ করেছে।
- ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ভয়েজার ১-এর সাথে যোগাযোগের দুটি নির্ধারিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ২০ অক্টোবর নাসা পুনরায় সেটির সংকেত ধরতে সক্ষম হয়।
- এই সময়ের মধ্যে মহাকাশযানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্যাকআপ থ্রাস্টারগুলোতে (চালিকাশক্তি ব্যবস্থায়) চলে যায়; যদিও কেন এমনটি ঘটল, তা জানার চেষ্টা করছেন প্রকৌশলীরা।
- মহাকাশযানটি এক আলোক-দিবস দূরত্বের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এই দূরত্বে, পৃথিবী ও ভয়েজার ১-এর মধ্যে একটি রেডিও সংকেত আদান-প্রদানে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
এই কর্মসূচিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই মহাকাশযানটিকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যে, এর অভ্যন্তরীণ কম্পিউটারগুলো যখনই সক্রিয় থ্রাস্টারগুলোতে কোনো সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করে, তখন এটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি মহাকাশযানটিকে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে আসতে পারে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম থামিয়ে দিতে পারে, যাতে প্রকৌশলীরা সমস্যাটি খতিয়ে দেখতে পারেন।