ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে মাথায় হাত পাকিস্তানের! ক্ষতির মুখে ওষুধ শিল্প - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে মাথায় হাত পাকিস্তানের! ক্ষতির মুখে ওষুধ শিল্প

Spread the love


নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের ভারত বয়কটে এখন নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারার অবস্থা।(Pakistan India) ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রায় ছয়-সাত…

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের ভারত বয়কটে এখন নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারার অবস্থা।(Pakistan India) ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রায় ছয়-সাত বছর পর পাক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এখন বলছে, এই পদক্ষেপের কারণে তাদের অর্থনীতিতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এই হিসাব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য বন্ধ থাকার ফলে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের দূরের দেশগুলো থেকে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়েছে, সময়ও বেশি লাগছে।

আরও দেখুনঃ ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে হামলা, নিহত গুজরাতের নাবিক! উদ্ধার ১৩

বিশেষ করে ওষুধ শিল্পের অবস্থা খারাপ। (Pakistan India)পাকিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো আগে ভারত থেকে অনেক কাঁচামাল আনত। এখন সেই সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা অন্য দেশ থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কাসুরির মতে, ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে শুধু এই খাতেই বছরে দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

একইভাবে টেক্সটাইল শিল্পও চাপে পড়েছে। দেশের ভিতরে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় মিল মালিকদের ব্রাজিল, মিশর, চিন ও আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

শুধু ওষুধ আর কাপড় নয়। চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম পণ্য, লোহা-ইস্পাত, সবজি এমনকি ভারী যন্ত্রপাতিও এখন দূরের বাজার থেকে আনতে হচ্ছে। অথচ ভারতে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে এবং দূরত্ব কম হওয়ায় খরচও কম হতো। কাসুরি জানিয়েছেন, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের কাছাকাছি। সেখান থেকে পেট্রোলিয়াম আমদানি করলে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচত।

বাস্তবতা হল, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পর ব্যবসায়ীরা এখন হিসাব কষছেন। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার হলে উভয় দেশের শিল্পই উপকৃত হবে। বিনিয়োগ বাড়বে, পর্যটন বাড়বে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

পাকিস্তানের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই চাপের মুখে। (Pakistan India)বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মুদ্রাস্ফীতি আর শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ায় সাধারণ মানুষও ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি সেদিকেই ফিরছে।

২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর ভারত পাকিস্তানের মোস্ট ফেভার্ড নেশন মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং শুল্ক বাড়ায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন অনেক পাকিস্তানি নেতা এটিকে জাতীয় গর্বের বিষয় বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন যে শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অর্থনীতি চলে না। দূরের দেশ থেকে পণ্য আনতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে অনেক শিল্প।

কাসুরির আহ্বান এখন ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ফিরে এলে সরবরাহ শৃঙ্খল মজবুত হবে এবং উৎপাদন খরচ কমবে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও জটিল। দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট রয়ে গেছে। তারপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *