বাংলায় এসআইআরে বাদ ২৭ লক্ষ নাম ফেরানোর দাবিতে সরব বিরোধীরা

কলকাতা: এসআইআরে (West Bengal SIR) বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ফেরানোর দাবি তুলল বাংলার বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার মুখ্য…
কলকাতা: এসআইআরে (West Bengal SIR) বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ফেরানোর দাবি তুলল বাংলার বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। বিরোধীদের বক্তব্য, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য Form 6 জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, বিজেপির স্বার্থে নির্বাচন কমিশন Form 7 ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলি বিরোধী নেতাদের বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে।
বৈঠকে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ১৬ লক্ষ আপিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরাই ওই আপিলগুলি জমা দিয়েছেন। এমনকী বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
Form 6 ও ১৬ লক্ষ আপিল নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, SIR-এর আপিল প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন SSR চালু করছে। তাঁর দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির অভিযোগে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের Form 6 জমা দিয়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত।
১৬ লক্ষ আপিল জমা পড়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছিলেন, নাম বাদ দেওয়ার জন্য ১৬ লক্ষ আপিল জমা পড়ার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। তা হলে ওই আপিলগুলি জমা দিল কারা? কুণালের দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই ঘটনা ঘটেছিল।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দফতরকে ‘পোস্ট অফিস’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
Form 7 নিয়ে সরব বামেরা, ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের
বৈঠকে Form 7-এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিএম নেতা পলাশ দাস। তাঁর বক্তব্য, “এটা কি বিজেপির স্বার্থে গণহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কোনও প্রকল্প?”
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের কাজের অগ্রগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাইব্যুনালগুলি নিজেদের নির্দেশ আপলোড করতে পারছে না। কলকাতার ট্রাইব্যুনালে কোনও বিচারকও নেই বলে দাবি করেন তিনি। এই পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী থাকবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন কংগ্রেস নেতা।
ভোটার তালিকার অসঙ্গতি তুলে ধরল বিজেপি
সর্বদলীয় বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধি শিশির বাজোরিয়া ভোটার তালিকায় একাধিক অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের এক ভোটারের সঙ্গে বাবা হিসেবে ৩৮৯ জন ভোটারের নাম যুক্ত রয়েছে। একইভাবে, বালিতে একজন ভোটারের সঙ্গে বাবা হিসেবে ৩১০ জনের নাম যুক্ত থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, পৃথক একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, “আমরা SIR মেনে নিচ্ছি না। ভোটার তালিকায় সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরেই পুরসভা নির্বাচন হওয়া উচিত। SSR শেষ হওয়ার পর নির্বাচন হওয়া দরকার।”
সমাজকর্মী হর্ষ মান্ডারও SIR-এর আগের ভোটার তালিকায় ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন, বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং ট্রাইব্যুনালের আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য এদিনের বৈঠকে আরও স্পষ্ট হয়েছে।