আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার দুঃসাহসিক অভিযান, জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত ২০ নাবিক
নয়াদিল্লি: আরব সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নৌসেনা। সোমালি জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ইরানের একটি মাছ ধরার জাহাজ থেকে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে…
নয়াদিল্লি: আরব সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নৌসেনা। সোমালি জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ইরানের একটি মাছ ধরার জাহাজ থেকে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। মুম্বই থেকে ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে। ২ নভেম্বর অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা সূত্র।
জানা গিয়েছে, ‘আজিনি’ (Azini) নামের ইরানি মাছ ধরার জাহাজটি গত ২৯ অক্টোবর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে জলদস্যুদের দখলে চলে যায়। বান্দর বায়লা এবং হাফুন শহরের মধ্যবর্তী সমুদ্র এলাকায় জাহাজটি ছিনতাই করা হয়েছিল।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয় ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতা। দূরপাল্লার নজরদারির জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল নৌসেনার পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান। অভিযানে এমকিউ-৯-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্মও সাহায্য করে। পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ বিমান থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে প্যারাশুটের মাধ্যমে মেরিন কমান্ডোদের নামানো হয়।
প্রায় দু’দিন ধরে জলদস্যুদের গতিবিধির উপর নজর রাখে ভারতীয় বাহিনী। শেষ পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটিকে আটকানো হয়। ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা হয় ২০ জন নাবিক এবং মাছ ধরার জাহাজটিকে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেও একটি পাকিস্তানি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় খবরের শিরোনামে এসেছিল আইএনএস কলকাতা।
অভিযানের সাফল্যে ভারতীয় নৌসেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতীয় বায়ুসেনার সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে রাজনাথ লেখেন, মুম্বই থেকে ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে আরব সাগরে ৪৮ ঘণ্টার সুপরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে নৌসেনা। জলদস্যুদের হাত থেকে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি।
রাজনাথের কথায়, দ্রুত জাহাজটির অবস্থান চিহ্নিত করা, সেটিকে আটকানো এবং নাবিকদের নিরাপদে মুক্ত করার ঘটনা ভারতীয় নৌসেনার উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি ও দক্ষতার পরিচয় দেয়। এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার সময়োপযোগী সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক সেনাকর্মীর সাহস ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ভারতীয় নৌসেনা ফের প্রমাণ করল যে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানুষের জীবন রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশ প্রস্তুত। নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং অবাধ, উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে ভারত!’ মত কানাডার কার্নির
ফ্লোরিডার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ল বেসরকারি বিমান! মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৯