শিবসেনা নেতার বাড়িতে মাদক রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা! বরখাস্ত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর
পঞ্জাবের খান্নায় এক শিবসেনা নেতার বাড়িতে মাদক রাখার অভিযোগ।(Drug Planting) সবচেয়ে বড় কথা এই অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর…
পঞ্জাবের খান্নায় এক শিবসেনা নেতার বাড়িতে মাদক রাখার অভিযোগ।(Drug Planting) সবচেয়ে বড় কথা এই অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
SHOCKING ‼️
PUNJAB POLICE ASI CAUGHT ON CCTV IN ALLEGED DRUG PLANTING!
CCTV from Shiv Sena leader Mahant Kashmir Giri’s house in Khanna shows an ASI in plain clothes slipping something under the mattress. Police then raid, claim 30g heroin from the same spot, and arrest him.
After the video went public, SSP Darpan Ahluwalia suspended ASI Sukhdev Singh, set up an SIT, and discharged Giri https://t.co/yKxT6lixS4
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) November 2, 2026
লুধিয়ানা জেলার খান্নায় কাটিকান চৌকের কাছে শিবসেনা নেতা মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি এমনভাবে উন্মোচিত হয়েছে যে স্থানীয় মানুষের মধ্যে পুলিশি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন জেগেছে।
আরও দেখুনঃ কাগজের নোটের দিন শেষ? ১০ ও ২০ টাকায় নতুন চমক আনতে চলেছে RBI
ঘটনার সূচনা হয় মহন্ত কাশ্মীর গিরির চালক গুরজন্ত সিং ওরফে জান্তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করার পর। তার কাছ থেকে প্রায় সাত দশমিক পাঁচ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়।(Drug Planting) জিজ্ঞাসাবাদে চালক মহন্তের নাম উল্লেখ করেন। এরপর পুলিশ দল মহন্তের বাড়িতে অভিযানের পরিকল্পনা করে। কিন্তু অভিযানের আগেই সিআইএ স্টাফের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর সুখদেব সিং সাদা পোশাকে বাড়িতে ঢোকেন।
বাড়ির ভেতরে লুকানো ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায় তিনি একটি ঘরে ঢুকে বিছানার গদি উঁচিয়ে তার নিচে কিছু একটা রেখে চলে যান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সদর থানার এসএইচও বিজয়পাল সিং ও সিটি-২ থানার এসএইচও তারবিন্দর কুমার বেদির নেতৃত্বে পুলিশ দল বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা সেই একই জায়গা থেকে প্রায় ত্রিশ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে গ্রেফতার করে।
পরে বাড়ির পরিবারের সদস্যরা লুকানো ক্যামেরার ফুটেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন এবং সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায় পুলিশ অফিসার সাদা পোশাকে একা একা ঢুকে গদির নিচে প্যাকেট রাখছেন।
এই ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর খান্নার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ দর্পণ আহলুওয়ালিয়া তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। তিনি এএসআই সুখদেব সিংকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং একজন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেন। একইসঙ্গে মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
এসএসপি দর্পণ আহলুওয়ালিয়া বলেন, পঞ্জাব পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। (Drug Planting)আইন সবার জন্য সমান, চাই তিনি অভিযুক্ত হোন বা পুলিশ কর্মী। মাদক মামলায় কোনো অবহেলা বা অসদাচরণ সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, প্যাকেটের বিষয়বস্তু ও ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভাগীয় তদন্তও চলছে যাতে জানা যায় সেই মাদক কোথা থেকে এসেছে এবং এতে আর কেউ জড়িত কিনা।
এই ঘটনা পঞ্জাবের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজ্যে নেশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে এবং পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এমন ঘটনা সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে যে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে কিনা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সিসিটিভি না থাকলে হয়তো সত্য কখনোই বেরিয়ে আসত না। মহন্ত কাশ্মীর গিরি নিজেও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ প্রশাসন দাবি করছে তারা শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। বিশেষ তদন্ত দল এখন ঘটনার পুরো ক্রম ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। (Drug Planting)এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পঞ্জাবের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, পুলিশ যদি নিজেই প্রমাণ রোপণ করে তবে মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। অন্যদিকে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে কেউ কেউ প্রশংসাও করছেন।
খান্নায় এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। শিবসেনা নেতা হিসেবে পরিচিত মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটায় দলের নেতাকর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক যাতে সত্য বেরিয়ে আসে এবং দোষীরা শাস্তি পায়। পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে এবং কোনো কিছু গোপন থাকবে না।