বিজেপি শাসিত রাজ্যে অবৈধ মদের কারবার আটকাতে গিয়ে গাড়ির চাকায় পিষ্ট পুলিশ আধিকারিক

ভোপাল: অবৈধ মদের কারবার রুখতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক পুলিশ আধিকারিক(Police Officer)। মদ পাচারের অভিযোগে থাকা একটি গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করতেই সেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট…
ভোপাল: অবৈধ মদের কারবার রুখতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক পুলিশ আধিকারিক(Police Officer)। মদ পাচারের অভিযোগে থাকা একটি গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করতেই সেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার ইন্দোর-বেতুল জাতীয় সড়কে।
মৃত পুলিশ আধিকারিকের নাম দিলীপ পুরী। তিনি খাতেগাঁও থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যেই গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অবৈধ মদ বোঝাই গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশ আধিকারিককে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি পালানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও দেখুনঃ আগামী ৩ বছরে বিদেশেও ছুটবে বন্দে ভারত! ঘোষণা বৈষ্ণবের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটি গাড়িতে করে অবৈধ মদ পাচার করা হচ্ছে বলে খবর পান খাতেগাঁও থানার পুলিশ আধিকারিকরা। (Police Officer)সেই তথ্যের ভিত্তিতে দিলীপ পুরী একটি পুলিশ দল নিয়ে ইন্দোর-বেতুল জাতীয় সড়কে পৌঁছন। সেখানে পাচারকারীদের গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। অভিযোগ, পুলিশি অভিযান চলাকালীন গাড়িটি আচমকাই দিলীপ পুরীর উপর দিয়ে চলে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আঘাতের কারণে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশ মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পরই অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাড়িতে থাকা অবৈধ মদও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে চালক ঠিক কী পরিস্থিতিতে পুলিশ আধিকারিককে ধাক্কা দেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধরা পড়ার আশঙ্কায় পালানোর চেষ্টা করছিল গাড়িটি। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে চালক ইচ্ছাকৃতভাবে দিলীপ পুরীকে চাপা দিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রদেশে অবৈধ মদের কারবার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেওয়াস জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ভেজাল মদ পান করে একাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে চান্দানা ও বিনজানা গ্রামের অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর।
তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে ভেজাল মদ পানের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।(Police Officer) শুধু মৃত্যুই নয়, আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কারও কারও দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যাও দেখা দেয় বলে জানা যায়।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশে অবৈধ মদের ব্যবসা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ওই মৃত্যুগুলির সঙ্গে বিষাক্ত মদের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
পরে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক স্তরেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছিল। আবগারি দফতরের কয়েকজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয় এবং জেলার কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করা হয়।
এবার অবৈধ মদ পাচার আটকাতে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অরুণ যাদব এই ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। (Police Officer)তাঁর বক্তব্য, যাঁদের হাতে আইন রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে, তাঁরাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে এই ঘটনার জবাবও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কংগ্রেস নেতা।