নেপালে হোটেলে আগুন লেগে সর্বস্বান্ত ২৯ বাঙালি অভিযাত্রী
এই সময়, বসিরহাট: বিদেশে তীব্র ঠান্ডায় বরফে মোড়া পাহাড়ে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে পড়ে চরম বিপাকে বসিরহাটের একদল পর্যটক। গত শুক্রবার নেপালের ডিংবোচে ১৪৪৭০ ফুট উচ্চতায় একটি হোটেলে আগুন লাগে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে। সে সময়ে হোটেলে ছিলেন বসিরহাট ট্রাভেলার্স গিল্ডের সাতজন মহিলা–সহ ২৯ সদস্যের একটি পর্বতারোহী দল।
দলের চারজন ছাড়া সবার রুকস্যাক, ব্যাগে থাকা পোশাক, অভিযানের সাজ সরঞ্জাম, জুতো, খাবার, টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথি সবই পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার কবলে পড়া অভিযাত্রী দলের সদস্যদের দেশে ফেরানোর জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সাহায্য চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে বসিরহাটের ট্রাভেলার্স গিল্ডের সদস্যদের তরফ থেকে ।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানের উদ্দেশে গত ২১ অক্টোবর ২৯ জনের একটি দল বসিরহাট থেকে রওনা দেয়। দলনেতার অনুমতি নিয়ে ১০ জন অভিযাত্রী লবুচে অগ্রবর্তী শিবিরে যাত্রা করেন। বাকি ১৯ জন ছিলেন গুডলাক হোটেলে। আচমকা গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটে হোটেলে আগুন লাগে। বরফের মধে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে হোটেলটি। পর্যটকদের সমস্ত জিনিস পুড়ে যায়। কোনও রকমে প্রচণ্ড ঠান্ডায়, তুষারপাতের মধ্যে শনিবার পর্বতারোহীরা প্যাংবোচেতে নেমে আসেন।
ট্রাভেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক শান্তি কুমার রায় অভিযাত্রী দলকে নিরাপদে ফিরে আনার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযাত্রীদের নামিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছি। আমাদের সঙ্গে সাতজন মহিলা–সহ মোট ২৯ জন অভিযাত্রী এবং একজন গাইড ও চারজন পোর্টার মিলে ৩৪ জন রয়েছে। হোটেলে আগুন লেগে আমাদের ঠান্ডা মোকাবিলা করার মতো জামাকাপড়, জুতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। টাকা, নথিপত্রও সব পুড়ে গিয়েছে। এখন দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিটের ব্যবস্থা করা এবং আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রার্থনা করা হয়েছে সরকারের কাছে।’
বসিরহাট জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও বসিরহাট ট্রাভেলার্স গিল্ডের সহ-সম্পাদক দীপক বসু বলেন, ‘ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনকে আমাদের অভিযাত্রীদের সমস্যার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই ফাউন্ডেশনে দেবব্রত মুখোপাধ্যায় নামে আমাদের একজন প্রতিনিধি আছেন। তিনি নেপালে গিয়েছেন একটি মিটিং উপলক্ষে। আমাদের যাত্রীদের কাছে থাকা প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ও মোবাইল পুড়ে গিয়েছে।’ সরকারি তরফে অবশ্য কোনও উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি।