পুজোর মুখে ফের বানভাসি ঘাটাল, যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকো, রইল দুর্ভোগের নানা টুকরো ছবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুজোর মুখে ফের বানভাসি ঘাটাল, যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকো, রইল দুর্ভোগের নানা টুকরো ছবি

Spread the love

বাঁধ ভেঙে হু হু করে জল ঢুকছে। রাস্তাঘাট সব জলে থৈ থৈ। গামছায় সিলিন্ডার বেঁধে জলের মধ্যে দিয়েই টেনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। বাজার-দোকান সব বন্ধ। নিজেদের বাড়ির নৌকা নিয়েই বেরিয়ে পড়েছেন অনেকে। ঘাটাল-চন্দ্রকোণা টাউনের বিভিন্ন এলাকার ছবি এখন খানিকটা এমনই।

পুজোর মুখে ফের বন্যা পরিস্থিতি ঘাটাল ও চন্দ্রকোণা টাউন এলাকায়। কয়েকদিন ধরেই নিম্নচাপের জেরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। প্রায় এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

যার জেরে খালবিল সব জলে উপচে উঠেছে। গ্রামের ভিতরে ঢুকেছে জল। তবে এর মধ্যে আবার বাঁধ ভেঙে আরও বিপদ বেড়েছে। সূত্রের খবর, টানা বৃষ্টির জেরে শিলাবতীর জলস্তর বাড়ায় জামদান ও গোপালপুর গ্রামের মাঝে শিলাবতীর বাঁধ ভেঙে যায়। এর জেরে ঘাটাল, চন্দ্রকোণার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকছে। জলে ডুবেছে ঘাটাল পুরসভার ১২টি ওয়ার্ড-সহ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা।

পাশাপাশি, ওই বাঁধের উপর দিয়ে জামদান, গোপালপুর-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে নিত্যদিন গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। যার জেরে ওই পথ দিয়ে তাঁদের যাতায়াত কার্যত এখন বন্ধ। অনেকেই সেখানে কাজে যান। তাঁদের কপালেও এখন চিন্তার ভাঁজ।

শুধু তাই নয়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হু হু করে বন্যার জল ঢুকতে শুরু করেছে কৃষিপ্রধান এলাকায়। চৌকা, শিমুলিয়া,প্রসাদ পুর,রঘুনাথপুর,কৃষ্ণবল্লভপুর, জামিরা, দেওয়ান চক, ভগীরথপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা জলের তলায়।

জল জমেছে ঘাটাল শহরেও। ঘাটালের দু নম্বর ওয়ার্ডে আরগোদা চাথাল দু’দিন ধরে জলের তলায়। ঘাটালের বিবেকানন্দ মোড়, বাস স্ট্যান্ডের মাঝখানে রাস্তাও জলমগ্ন। রাস্তার পাশের দোকানগুলিতে জল ঢুকে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছেন রাস্তার উপর দিয়ে।

সূত্রের খবর, বহু জায়গায় রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। জলের তলায় চলে গিয়েছে রাস্তাঘাট, একাধিক ঘরবাড়ি এবং বিঘার পরে বিঘা কৃষিজমি। আর এই জল-যন্ত্রণায় চরম ভোগান্তিতে ঘাটাল-চন্দ্রকোণার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা লাল্টু মাইতি জানিয়েছেন, জলমগ্ন এলাকার যাতায়াতের জন্য এখন বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নৌকো। সরকারি উদ্যোগে কোথাও কোথাও নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকের কাছে আবার নিজস্ব নৌকাও রয়েছে, তাঁরা সেগুলি নিয়েই যাতায়াত করছেন।

ঘাটালের পান্না গ্রাম পঞ্চায়েতেও সরকারি উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৮টি গ্রাম এর মানুষ নৌকোয় করে যাতায়াত করছেন।

তবে ঘাটাল-চন্দ্রকোণা এলাকায় এই জল-যন্ত্রণা বহুদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই বানভাসি হয় ঘাটাল ও তার পাশ্ববর্তী এলাকা। চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় মানুষদের। প্রশাসনকে বহু বার এই সমস্যার কথা জানানোর পরও সুরাহা হয়নি।

তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন তাঁদের পাশে রয়েছে। তবে আশ্বাস মিললেও পুজোর আগে এ ভাবে জল ঢুকে একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ঘাটালের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *