কেন্দ্রের অঙ্গুলি হেলনে একাই সিদ্ধান্ত নিতেন জ্ঞানেশ! নির্বাচন কমিশনে শুরু ঠান্ডা লড়াই - 24 Ghanta Bangla News
Home

কেন্দ্রের অঙ্গুলি হেলনে একাই সিদ্ধান্ত নিতেন জ্ঞানেশ! নির্বাচন কমিশনে শুরু ঠান্ডা লড়াই

Spread the love

নয়াদিল্লি: এবার নির্বাচন কমিশনের ভিতরেই শুরু হয়েছে ঠান্ডা লড়াই।(internal rift) সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে তিন সদস্যের কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার গত দশ মাসে…

নয়াদিল্লি: এবার নির্বাচন কমিশনের ভিতরেই শুরু হয়েছে ঠান্ডা লড়াই।(internal rift) সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে তিন সদস্যের কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার গত দশ মাসে অন্তত ১৪বার বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন।

তাঁরা দাবি করেছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁদের অজান্তেই নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি পদক্ষেপকে তাঁরা ‘অননুমোদিত ও অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তারা অভিযোগ করেছেন যে প্রধান নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্পূর্ণ কেন্দ্র সরকারের অঙ্গুলি হেলনে কমিটিকে অগ্রাহ্য করে একাই সিদ্ধান্ত নিতেন।

আরও দেখুনঃ ষষ্ঠীর আগেই বড় উপহার! ১৫ অক্টোবরই সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বেতন-পেনশন

প্রতিবেদন অনুসারে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু ও বিবেক জোশি মূলত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই আপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা পরিষ্কার ও হালনাগাদ করার কাজ চলছে। তাঁদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে নতুন ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনরুদ্ধার, আপিল দায়ের এবং ভোটার তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়।

Advertisements


   


   

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন। (internal rift)নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের এই ফর্মে এমন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছিল, যেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হত তাঁর বা তাঁর পিতা-মাতা বা দাদু ঠাকুমার নাম আগের এসআইআর তালিকায় ছিল কিনা। নির্বাচন কমিশনার জোশি মে মাসেই সতর্ক করেছিলেন যে আইনি নিয়ম সংশোধন ছাড়া এই ধরনের পরিবর্তন করা যায় না। পরে সন্ধু এটিকে ‘অননুমোদিত ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আরেকটি বড় উদ্বেগ ছিল ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ। (internal rift)তাঁরা সতর্ক করেছেন যে দিল্লিতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে, যার ফলে রাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাচ্ছে। জোশি একটি নিরীক্ষা বা অডিটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে নিশ্চিত করা যায় শুধুমাত্র আইনসম্মত কর্তৃপক্ষই তথ্যভান্ডারে পরিবর্তন আনতে পারে। সন্ধুও জানিয়েছেন, রাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাঁদের যথাযথ ও সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার নেই।

এই মতভেদ এতটাই গভীর হয়েছে যে দুই কমিশনার আলাদাভাবে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাঁরা কাজের বণ্টন পরিবর্তন নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন, যার ফলে ভোটার তালিকার আইটি ব্যবস্থার তদারকি স্তর কমে গিয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন তাঁদের অজান্তেই করা হয়েছিল এবং তাঁরা সেটি বাতিল করে দিয়েছেন।নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে যে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের অনুমোদন রয়েছে।

কমিশনের সূত্রগুলো বলেছে, দৈনন্দিন কাজের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশ স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো একমত হয়েই গৃহীত হয়।তবে এই খবর প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং সংসদে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অভ্যন্তরীণ মতভেদ গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *