বাঘের গায়ে ডোরা দাগ কেন থাকে?
বাঘের শরীরের কালো-কমলা ডোরা দাগ দেখলেই তাকে আলাদা করে চেনা যায়। কিন্তু এই দাগ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বাঘের বেঁচে থাকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
বাঘ সাধারণত ঘাস, ঝোপঝাড় আর জঙ্গলের মধ্যে শিকার করে। শরীরের ডোরা দাগ তাকে এই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।
দূর থেকে বাঘের শরীরের ডোরাগুলো একটানা দেখা যায় না। বরং ঘাস, গাছের ছায়া আর আলো-আঁধারির সঙ্গে মিশে গিয়ে তার শরীরের আকার আড়াল করে।
একে বলা যায় ক্যামোফ্লাজ (Camouflage)। অর্থাৎ, নিজের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে এমন ভাবে মিশে যাওয়া, যাতে অন্য প্রাণীর চোখে সহজে ধরা না পড়ে।
বাঘ শিকারের সময় চুপচাপ নীচু হয়ে এগিয়ে যায়। তখন তার ডোরা দাগ শরীরের আসল আকৃতি বুঝতে শিকারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
মজার বিষয় হলো, প্রতিটি বাঘের ডোরার নকশা একে অন্যের থেকে আলাদা। অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতোই প্রতিটি বাঘের ডোরার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে।
বাঘের ডোরা শুধু শরীরের উপরেই দেখা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে চামড়াতেও সেই একই ধরনের দাগের প্যাটার্ন থাকে, তাই লোম কেটে গেলেও দাগের ছাপ দেখা যেতে পারে।
বাঘের এই দাগ শিকার ধরার পাশাপাশি তাকে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে ঘন গাছপালা আর আলো-ছায়ায় এই ছদ্মবেশ আরও কার্যকর হয়।
তাই বাঘের গায়ের ডোরা শুধু তার পরিচয়ের অংশ নয়। জঙ্গলের আলো-ছায়ায় নিজেকে আড়াল করে শিকারের কাছে পৌঁছনোর জন্য প্রকৃতির তৈরি এক অসাধারণ কৌশল।