আম্পায়ারদের বেতন বাড়াচ্ছে BCCI, চালু হচ্ছে মেরিটের ভিত্তিতে প্রমোশন-রেলিগেশন - 24 Ghanta Bangla News
Home

আম্পায়ারদের বেতন বাড়াচ্ছে BCCI, চালু হচ্ছে মেরিটের ভিত্তিতে প্রমোশন-রেলিগেশন

Spread the love

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই (BCCI )। প্রায় এক দশক পর আম্পায়ারদের পারিশ্রমিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।…

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই (BCCI )। প্রায় এক দশক পর আম্পায়ারদের পারিশ্রমিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আম্পায়ারদের মূল্যায়নের জন্য চালু হচ্ছে মেরিটের ভিত্তিতে প্রমোশন ও রেলিগেশন ব্যবস্থা। অর্থাৎ মরশুমজুড়ে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ঠিক হবে কোন আম্পায়ার কোন স্তরে দায়িত্ব পাবেন। শুক্রবার বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

চারটি নতুন গ্রেড, বাড়ল দৈনিক পারিশ্রমিক

বিসিসিআই জানিয়েছে, আগে আম্পায়ারদের জন্য চারটি শ্রেণি থাকলেও এবার সেই কাঠামো পুনর্গঠন করে এ, বি, সি এবং ডি নামে চারটি গ্রেড করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় দৈনিক পারিশ্রমিক হবে:

গ্রেড নতুন দৈনিক পারিশ্রমিক
এ ৬০,০০০ টাকা
বি ৫০,০০০ টাকা
সি ৪০,০০০ টাকা
ডি ৩৫,০০০ টাকা

সাইকিয়ার জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ মরশুম থেকে প্রায় ১০ বছর আম্পায়ারদের ফি-তে কোনও সংশোধন হয়নি। এবার সেই পারিশ্রমিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এর আগে সিনিয়র ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দুই শ্রেণির আম্পায়াররা যথাক্রমে দৈনিক ৪০,০০০ টাকা ও ৩০,০০০ টাকা পেতেন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক ছিল ২০,০০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

Advertisements


   


   

ম্যাচ রেফারিদের ক্ষেত্রেও পারিশ্রমিক কাঠামো সংশোধন এবং ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে তাঁদের নতুন গ্রেডভিত্তিক নির্দিষ্ট অঙ্ক বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

এবার পারফরম্যান্সই ঠিক করবে আম্পায়ারের ভবিষ্যৎ

শুধু বেতন বাড়ানো নয়, আম্পায়ারদের কাজের মান আরও উন্নত করতে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থাও চালু করছে বিসিসিআই। ‘আম্পায়ার্স বোর্ড’-এর অধীনে একটি মূল্যায়নকারী দল থাকবে। সেই দল মরশুমজুড়ে আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর তাঁদের যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিভিন্ন ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা বা পুরনো গ্রেডের ভিত্তিতে ম্যাচ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। মাঠের পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রতি মরশুম শেষে হবে প্রমোশন ও রেলিগেশন

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি মরশুমের শেষে আম্পায়ারদের গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। সাইকিয়ার জানিয়েছেন, ভালো পারফরম্যান্স করা আম্পায়ারদের পরের স্তরে উন্নীত করা হবে। একইভাবে উচ্চতর গ্রেডে থাকা কোনও আম্পায়ারের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে তাঁকে নিচের স্তরে নামিয়ে দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার ফলে পুরো মরশুমজুড়ে আম্পায়ারদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার চাপ বাড়বে। বিসিসিআইয়ের যুক্তি, ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত অনেক সময় কোনও খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই আম্পায়ারদের দক্ষতা ও সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্পোর্টস গভর্ন্যান্স আইন নিয়ে ২৭ অক্টোবর জবাব

জাতীয় স্পোর্টস গভর্ন্যান্স আইনের আওতায় বিসিসিআই এবং রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে কেন আনা হবে না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সাইকিয়া। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থান স্পষ্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাকি রয়েছে। বিসিসিআইয়ের বক্তব্য, কোনও খেলাকে নির্দিষ্টভাবে ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্ট’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত নতুন আইনের অধীনে তাদের কিছু করার নেই। পরবর্তী শুনানিতে, ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে বিসিসিআই তাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব।

ফের স্পোর্টস সায়েন্স প্রধান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

বিসিসিআই আবারও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের প্রধান নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। বোর্ডের ক্রিকেটারদের ফিটনেস, চোট থেকে পুনর্বাসন এবং স্পোর্টস সায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

বয়স জালিয়াতি রুখতে নতুন নিয়ম

রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির জন্য বয়স জালিয়াতি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাইকিয়া জানিয়েছেন, বিসিসিআই তাদের বয়স জালিয়াতি সংক্রান্ত নীতিগুলি নতুন করে পর্যালোচনা করেছে এবং আপডেটেড নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি জারি করেছে। এখন থেকে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার দল তৈরি করার সময় এই নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্যও উদ্যোগ

শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের আরও বেশি সহযোগিতা করার জন্য রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই চায়, রাজ্য সংস্থাগুলি এই ক্রিকেটারদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা ও সুযোগ তৈরিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিক। এদিকে ২০২৭ সালের আইপিএল মার্চের শেষ দিকে শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। ফলে আগামী মরশুমের ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আম্পায়ারিং কাঠামোতেও এবার বেশ কিছু বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?

Read More:  Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা

Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *