বর্ষাবিদায়ের সুর দেশে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও - 24 Ghanta Bangla News
Home

বর্ষাবিদায়ের সুর দেশে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও

Spread the love

এই সময়: দেশে বর্ষা বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেল। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) হিসেব বলছে, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তবে তার জন্য এখনই যে বৃষ্টির ছুটি হচ্ছে, এমনটা নয়। বরং মৌসুমি বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দেশের বেশ কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। মৌসম ভবন জানাচ্ছে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার শুরু হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সাধারণত উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষার বিদায়পর্ব শুরু হয় ১৭ সেপ্টেম্বর নাগাদ। এ ক্ষেত্রে চার দিনের হেরফেরকে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। ২০২৫–এ অবশ্য মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার শুরু হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে এ বছর নির্ধারিত সময়ের তুলনায় সামান্য দেরিতেই বর্ষার বিদায়পর্ব শুরু হতে পারে।

তবে প্রত্যাহারের আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি একেবারেই শান্ত থাকবে না। আইএমডি জানিয়েছে, উত্তর গুজরাটের উপরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বজ্রপাত, বজ্রগর্ভ মেঘ এবং ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। আগামী দু’-তিন দিন রাজস্থানের সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পশ্চিম রাজস্থানে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব রাজস্থানে বৃষ্টি চলতে পারে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি ও পঞ্জাবেও ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দুর্গাপুজোর একমাস আগে এমন ভাবে বর্ষা বিদায়ের তোড়জোড় কলকাতা–সহ বাংলার পুজোপ্রেমীদের কাছে স্বস্তির খবর হলেও গোটা দেশের নিরিখে সামগ্রিক বর্ষার ছবিটি বেশ উদ্বেগজনক। চার মাসের বর্ষাকালের আর মাত্র পক্ষকাল বাকি। তার মধ্যেই আইএমডি-র পরিসংখ্যান বলছে, দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ এলাকা বৃষ্টির ঘাটতিতে রয়েছে। জুনে সর্বভারতীয় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫.৪ শতাংশ কম হয়েছিল। জুলাইয়ে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বৃষ্টি হয়েছিল স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ বেশি। অগস্টে ফের ১৩.৮ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেয়। সেপ্টেম্বরেও এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি ১৫ শতাংশ।

বর্ষার শেষে দক্ষিণ ভারতীয় উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। গোয়ায় ১৬ শতাংশ, হরিয়ানায় ২৩ শতাংশ, পাঞ্জাবে ৪০ শতাংশ, বিহারে ৩৫ শতাংশ এবং রাজস্থানে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতিও চিন্তার। অরুণাচলপ্রদেশ ও মণিপুরে ৪২ শতাংশ, অসমে ২৫ শতাংশ এবং মেঘালয়ে ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি হতে পারে। তবে ব্যতিক্রম আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে মরসুমের শেষে বৃষ্টিপাত মোটের উপরে স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা। স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও।

সব মিলিয়ে, ক্যালেন্ডারে বর্ষার বিদায়ের সময় এগিয়ে এলেও আকাশ এখনই পরিষ্কার হওয়ার লক্ষণ নেই। এক দিকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি, অন্য দিকে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড় — মরসুমের শেষ পর্বে এমনই বৈপরীত্যের ছবি দেখাচ্ছে আবহাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *