বড় ব্যবসায়ীদের পেমেন্টের ওপর সরকার কেন ইউপিআই মাশুল বসাচ্ছে?
মুম্বই: ভারতের জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI-তে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন ইউপিআইয়ের মাধ্যমে মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মার্চেন্ট…
মুম্বই: ভারতের জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI-তে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন ইউপিআইয়ের মাধ্যমে মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নেওয়া হত না। এবার বড় অঙ্কের মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে সেই নিয়মে পরিবর্তন আনছে সরকার।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের ব্যক্তি থেকে মার্চেন্ট বা পি২এম ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট প্রযোজ্য হবে। এই চার্জ সাধারণ গ্রাহককে দিতে হবে না, মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীকে বহন করতে হবে।
সর্বোচ্চ কত টাকা চার্জ হবে?
নতুন নিয়মে ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের কোনও লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা-তে সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, ২,০০০ টাকার বেশি মার্চেন্ট পেমেন্টে নতুন চার্জ প্রযোজ্য হলেও তা সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির ইউপিআই লেনদেন এবং দৈনন্দিন অধিকাংশ ছোট অঙ্কের মার্চেন্ট পেমেন্ট আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে।
Read More: ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন ইউপিআই নীতি: কার কত খরচ হবে, আর কী কী মিলবে বিনামূল্যে?
Advertisements
কেন ইউপিআইতে এই ফি চালু করা হচ্ছে?
ইউপিআই ব্যবস্থার পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই জানিয়েছে, নতুন এমডিআর থেকে পাওয়া অর্থ ইউপিআই পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা, সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, নতুন প্রযুক্তি ও পরিষেবার উন্নয়ন এবং গ্রাহক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পেমেন্ট শিল্পের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, ইউপিআই পরিচালনার প্রকৃত খরচের তুলনায় সরকারের দেওয়া বার্ষিক আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। নতুন এমডিআর ব্যবস্থা সেই খরচের একটি অংশ মেটানোর পথ তৈরি করতে পারে।
Read More:ভারতকে মৃত অর্থনীতি সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে বৈদেশিক মুদ্রা রিসার্ভে ৪ নম্বরে ভারত
২০২০ সাল থেকে ইউপিআইতে এমডিআর ছিল শূন্য
নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চালু থাকা শূন্য এমডিআর ব্যবস্থার অবসান হবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্যেই সেই সময় ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মার্চেন্ট লেনদেনে ফি তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর পরিবর্তে ব্যাংক এবং ফিনটেক সংস্থাগুলিকে বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে আর্থিক উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে ইউপিআই ভারতে দৈনন্দিন পেমেন্টের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসা, অনলাইন কেনাকাটা থেকে পরিষেবা সংক্রান্ত পেমেন্ট, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের ব্যবহার বেড়েছে।
সাধারণ গ্রাহকের জন্য কী পরিবর্তন?
নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চার্জটি গ্রাহকের উপর চাপানো হচ্ছে না। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি দোকান বা ব্যবসায়ীর কিউআর কোড স্ক্যান করে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা দিলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এমডিআর মার্চেন্টকেই দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও এমডিআর চালু হচ্ছে না। দৈনন্দিন ছোট অঙ্কের অধিকাংশ মার্চেন্ট পেমেন্টও বিনামূল্যেই থাকবে। তবে ২,০০০ টাকার বেশি পি২এম লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের জন্য নতুন খরচ তৈরি হবে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ইউপিআই পেমেন্ট গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
ইউপিআই ব্যবস্থায় কী উদ্দেশ্য সরকারের?
ইউপিআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, তার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল পরিমাণ লেনদেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপরও চাপ বাড়ছে। এনপিসিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এমডিআর থেকে পাওয়া রাজস্ব ইউপিআই ব্যবস্থার মধ্যেই রাখা হবে এবং পরিকাঠামো, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহক পরিষেবায় পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে।
ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা এই পরিবর্তনকে শুধু নতুন চার্জ হিসেবে না দেখে ইউপিআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় মার্চেন্টদের উপর অতিরিক্ত খরচ কতটা পড়বে এবং সেই খরচ ব্যবসায়ীরা কীভাবে সামলাবেন, তা বাস্তবে নিয়ম চালুর পরই আরও পরিষ্কার হবে।