Indian Idol বিজয়ীর করুণ পরিণতি, মেয়ের জন্মের ২০ দিন পর মৃত্যু - 24 Ghanta Bangla News
Home

Indian Idol বিজয়ীর করুণ পরিণতি, মেয়ের জন্মের ২০ দিন পর মৃত্যু

Spread the love

গানের রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ (Indian Idol) বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের উপহার দিয়েছে একাধিক প্রতিভাবান গায়ক-গায়িকাকে। এই মঞ্চ থেকেই অনেক শিল্পী পরবর্তীকালে নিজেদের আলাদা…

গানের রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ (Indian Idol) বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের উপহার দিয়েছে একাধিক প্রতিভাবান গায়ক-গায়িকাকে। এই মঞ্চ থেকেই অনেক শিল্পী পরবর্তীকালে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন সন্দীপ আচার্য, যিনি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর দ্বিতীয় মরশুমের বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠার পর তাঁর জীবন আচমকাই থেমে যায়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় এই গায়কের, আর তার মাত্র ২০ দিন আগে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নম্রতা স্বাগত জানিয়েছিলেন তাঁদের প্রথম সন্তানকে।

ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি টান

১৯৮৪ সালে রাজস্থানের বিকানেরে জন্ম সন্দীপের। ছোট বয়স থেকেই গানের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে বিভিন্ন বড় মঞ্চেও গান গাওয়ার সুযোগ পান। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ২’-এ অংশ নেওয়ার পর। মিষ্টি ও সুরেলা কণ্ঠ খুব দ্রুত দর্শকদের মন জয় করে নেয়। শুধু গান নয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, আকর্ষণীয় চেহারা এবং উষ্ণ হাসিও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিল।

নেহা কক্করের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা

‘ইন্ডিয়ান আইডল ২’-এর প্রতিযোগিতায় সন্দীপের সঙ্গে ছিলেন পরবর্তীকালে জনপ্রিয় গায়িকা হয়ে ওঠা নেহা কক্করও। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শক ও বিচারকদের বিচারে সন্দীপই বিজয়ীর শিরোপা অর্জন করেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে রিয়্যালিটি শো জিতে রাতারাতি জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। পুরস্কার হিসেবে অর্থমূল্যের পাশাপাশি একটি গাড়িও পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে সোনির সঙ্গে ১ কোটি টাকার চুক্তি তাঁর কেরিয়ারে আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল। তাঁর কণ্ঠের সম্ভাবনা নিয়ে এতটাই আলোচনা হয়েছিল যে অনেক শ্রোতা তাঁকে জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগমের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছিলেন।

ইন্ডিয়ান আইডলের পর বাড়ছিল কেরিয়ার

রিয়্যালিটি শো জয়ের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠান এবং কনসার্টে গান গাইতে শুরু করেন সন্দীপ। তাঁর কেরিয়ার ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি গানের জগতে এসেছিলেন, তার অনেকটাই পূরণ হতে শুরু করেছিল। ২৮ বছর বয়সে তাঁর মা মনে করেন, এবার সংসার পাতার সময় এসেছে। এরপর নম্রতার সঙ্গে বিয়ে হয় সন্দীপের। খুব শীঘ্রই নতুন অতিথির অপেক্ষায় দিন গুনতে শুরু করেন তাঁরা।

Advertisements


   


   

স্ত্রীর গর্ভাবস্থাতেই শুরু শারীরিক সমস্যা

স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা, সেই সময় থেকেই সন্দীপের স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হিন্দুস্তান-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, তিনি লিভার-সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু প্রতিবেদনে তাঁর জন্ডিস হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসা শুরু হয় এবং চিকিৎসকেরা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন সন্দীপ। একসময় তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়। এরপর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছিলেন তিনি। এমনকি পরিবারের এক আত্মীয়ের বিয়েতেও যোগ দিয়েছিলেন।

বিয়েবাড়ি থেকেই হাসপাতালে

কিন্তু সেই বিয়েবাড়িতেই আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন চিকিৎসকেরা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী ছিলেন তাঁরা। কিন্তু আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়

চিকিৎসকেরা পরে পরিবারের সদস্যদের জানান, সন্দীপের শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মাত্র ২৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় ইন্ডিয়ান আইডলের এই প্রাক্তন বিজয়ীর। সন্দীপের মৃত্যুর ঘটনা তাঁর পরিবার এবং অনুরাগীদের কাছে অত্যন্ত মর্মান্তিক হয়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় ছিল মৃত্যুর সময়কাল।

মেয়ের জন্মের মাত্র ২০ দিন পর মৃত্যু

সন্দীপ ও নম্রতা তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর মাত্র ২০ দিন আগে। অর্থাৎ সদ্য বাবা হওয়ার আনন্দের মধ্যেই অকালে জীবন থেমে যায় তাঁর। পিছনে থেকে যায় স্ত্রী নম্রতা, মাত্র ২০ দিনের ছোট্ট কন্যাসন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে যে তরুণ একসময় নিজের কণ্ঠ দিয়ে কোটি দর্শকের মন জয় করেছিলেন, তাঁর জীবন ও কেরিয়ার আরও অনেক দূর এগোতে পারত। কিন্তু মাত্র ২৯ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সেই সম্ভাবনাকে চিরতরে থামিয়ে দেয়। আজও তাঁর জীবনকাহিনি রিয়্যালিটি শো থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান শিল্পীদের সাফল্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *