ভুয়ো ডাক্তারের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে চুপ বিরোধীরা!
কলকাতা: থাইমোসিসের মতো সামান্য অপারেশন করাতে গিয়ে প্রাণ (Child Death) গিয়েছে নাবালকের। পূর্ব বর্ধমানের নার্সিং হোমের সেই ঘটনায় তোলপাড়। সামনে এসেছে ভুয়ো ডাক্তারের রমরমা চক্র।…
কলকাতা: থাইমোসিসের মতো সামান্য অপারেশন করাতে গিয়ে প্রাণ (Child Death) গিয়েছে নাবালকের। পূর্ব বর্ধমানের নার্সিং হোমের সেই ঘটনায় তোলপাড়। সামনে এসেছে ভুয়ো ডাক্তারের রমরমা চক্র। রাজ্যের দিকে দিকে খোঁজ মিলছে ভুয়ো ডাক্তারের। সামনে এসেছে রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের কারচুপির ছবি। তারপরেও বিরোধীরা চুপ। জনতার জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলছে, কিন্তু বিরোধী শিবিরের নজর উৎসবে। দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে তরজা চলছে। অভয়ার ক্ষেত্রে সরব বিরোধীদের অরণ্যের ক্ষেত্রে নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর পিছনেও কি সেই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি?
চলতি মাসের শুরুর দিকে বর্ধমানের নার্সিং হোমে প্রাণ যায় ছোট্ট অরণ্য রায়ের। ডাক্তারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলে পরিবার। অপারেশন করা ডাক্তার হাতুড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সেই ডাক্তারের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করে বেসরকারি নার্সিংহোম সংগঠনের নেতারা। উঠে আসে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
অরণ্যর অপারেশন করা চিকিৎসক হলেন শেখ সায়েদুল হক। রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে, তিনি বিহারের এক মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তারপর সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পান। কিন্তু তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে মিল রয়েছে আরেক ডাক্তার জুলফিকার আলি মণ্ডলের। একদম একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে দু’জন রোগী দেখছেন। অপারেশন করছেন।
বেসরকারি নার্সিংহোম সংগঠনের সেক্রেটারি রাজীব পাণ্ডের দাবি, বিহারের মেডিক্যাল কলেজ থেকে জানিয়েছে যে তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে এই শেখ সায়েদুল হক এমবিবিএ পাস করেননি। এরা বিহারের সার্টিফিকেট দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়েছে। একইভাবে সরকারি হাসপাতালের টেকনিশয়ানরাও ভুয়ো ডাক্তারির সার্টিফিকেট দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেয়ে গিয়েছেন। আপাতত এমন তিনজনের খোঁজ পেয়েছি, শেখ ইউনুস হাসান, উত্তম মাইতি এবং হাফিজুর হালদার। মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভয়ানক কারচুপি আছে। জীবন নিয়ে ছেলেখেলা হচ্ছে।
Advertisements
চিকিৎসক শেখ সায়েদুল হক আবার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেন। সেই মেডিক্যাল কলেজটি আবার প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের আত্মীয়ের। সেই মেডিক্যাল কলেজে ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিনিয়োগ আছে বলেও অভিযোগ। হুমায়ুন কবীর এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন যে ওই আত্মীয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই।
চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, এসবই হয়েছে তৃণমূলের মদতে। সবকিছুর পিছনে রয়েছে কাটমানির খেলা। টাকা নিয়ে সব ধামাচাপা দিয়েছে। টাকার লোভে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। মেডিক্যাল কাউন্সিলের মাথারা যুক্ত। তাছাড়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরে জালিয়াতি সম্ভব নয়। এর ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়াও সম্ভব নয়।
খেলা হবে স্লোগান দিয়ে জীবন নিয়ে খেলা করেছে তৃণমূল। বদলের বঙ্গে এই জালিয়াতি ফাঁস হলেও এতে সরকারের কোনও কৃতিত্ব নেই। অরণ্যের মৃত্যুর পড়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। এত বড় ঘটনার পরেও বিরোধী বামেরা চুপ। তৃণমূল বিরোধিতা করলেও এই বিষয়ে বিরোধিতা করছে না। এমন গুরুতর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পিছনেও রাজনীতি দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, অভিযুক্তদের বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তৃণমূলের ভরাডুবির পরে সেই সমাজের বড় অংশ বামেদের দিকে ঝুঁকেছে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সমাজকে তাঁরা চটাতে নারাজ।
অরণ্যের মৃত্যু স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কঙ্কালসার চেহারা সামনে এনেছে। এমনই কোনও চক্রের বিষয়ে কি জানতে পেরেছিলেন অভয়া? তাই কি সেই মর্মান্তিক পরিণতির স্বীকার হতে হয়েছিল তাঁকে। অভয়ার হয়ে পথে নেমেছিল বামেরা। রাত দখল থেকে ভোর দখল- আন্দোলনের সুনামি হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। অরণ্যের মৃত্যুর সঙ্গে সামনে এসেছে আরও বড় কেলেঙ্কারি। তারপরেও মানুষের স্বার্থে বামেরা মানুষের পাশে নেই? ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে তোষণের পথে হাঁটছে।