ব্রিকস সামিটে কীভাবে কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মোদী - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রিকস সামিটে কীভাবে কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মোদী

Spread the love

নয়াদিল্লি: রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হাই-প্রোফাইল ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের অত্যন্ত সফল সমাপ্তি ঘটল। রবিবারের ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই সামিট ভারতের বিদেশ…

নয়াদিল্লি: রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হাই-প্রোফাইল ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের অত্যন্ত সফল সমাপ্তি ঘটল। রবিবারের ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই সামিট ভারতের বিদেশ নীতির ঝুলিতে এক বিরাট ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য এনে দিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত ব্যস্ত ও নিখুঁত কূটনৈতিক সূচির মধ্য দিয়ে চলা এই তিন দিনের সম্মেলনে বিশ্বের অন্তত ১৫ জন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সকলের সঙ্গেই কূটনৈতিক প্রজ্ঞা বজায় রেখে ভারত যে পশ্চিম বিশ্ব এবং নিজের প্রথাগত মিত্রদের মধ্যে এক অসম্ভব সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করল, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।

সামিটের প্রথম দিনেই (১১ সেপ্টেম্বর) ভারত মণ্ডপমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক রাজনীতির পটবদলের মাঝেও ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কৌশলগত রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সার আমদানির মতো বিষয়গুলিও সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এড়াতে একমাত্র সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরে অবাধ নৌ-চলাচল এবং নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন মোদী। এছাড়া রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক বহুপ্রান্তে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করেন দুই নেতা।

দ্বিতীয় দিনে সমস্ত কূটনৈতিক কৌতূহল ও নজর ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৈঠকের দিকে। প্রায় সাত বছর পর ভারতে পা রাখা শি-র সঙ্গে মোদীর এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দীর্ঘদিনের বরফ গলাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য নিয়ে অর্থবহ ও খোলামেলা আলোচনার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি এদিন ব্রিকস বিজনেস ফোরাম ও সামিটের মূল মঞ্চ থেকেও উন্নয়নশীল দেশগুলির (Global South) অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ব শাসন কাঠামোয় আমূল সংস্কারের জোরালো দাবি জানান তিনি। শি জিনপিং ছাড়াও এদিন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি, মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর যুবরাজ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান এবং ভিয়েতনামের লে মিন হংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করেছেন মোদী।

রবিবার ব্রিকস সামিটের সমাপনী দিনে ইরান ও আমিরশাহীর মধ্যকার আঞ্চলিক মতপার্থক্যকে সফলভাবে পাশ কাটিয়ে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬’-এ পূর্ণ সর্বসম্মত ঐকমত্য অর্জনে সক্ষম হয় ভারত। সমাপনী দিনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে দুই পাশে রেখে ব্রিকস পরিবারের পারিবারিক ছবি তোলার মুহূর্তটিকে এই ব্লকের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক শক্তির জোরালো প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন নরেন্দ্র মোদী। সামিটের শেষ দিনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোবো সুবিয়ান্তো, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। সমস্ত আন্তর্জাতিক জল্পনা, ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা এবং বৈশ্বিক চাপকে পেছনে ফেলে ভারতের এই সুচারু ও সফল আয়োজন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের কূটনৈতিক মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল।

Advertisements


   


   

ভারতকে ৩৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার হাইস্পিড ট্রেনের প্রস্তাব রাশিয়ার

২৬ বছর পর হিমাচল প্রদেশ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ র মধ্যে ১০ টিতেই বিজয়ী বিজেপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *