ঝাড়খণ্ডের SIR এ নোটিশ জারি ৩৮ সদস্যের ইরানি পরিবারকে - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঝাড়খণ্ডের SIR এ নোটিশ জারি ৩৮ সদস্যের ইরানি পরিবারকে

Spread the love

ঝাড়খণ্ডের গাঢ়ওয়া জেলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Jharkhand SIR)প্রক্রিয়ার সময় এক অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে। গাঢ়ওয়া রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সোনপুরওয়া মহল্লায় বসবাসকারী একটি ৩৮…

ঝাড়খণ্ডের গাঢ়ওয়া জেলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Jharkhand SIR)প্রক্রিয়ার সময় এক অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে। গাঢ়ওয়া রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সোনপুরওয়া মহল্লায় বসবাসকারী একটি ৩৮ সদস্যের পরিবারের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় উঠে আসার পর প্রশাসন তাদের সবাইকে নোটিশ জারি করেছে। এই পরিবার ইরানি বংশোদ্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে এবং তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।

পরিবারের সদস্যদের কাছে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, রেশন কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, আয় ও আবাসিক সার্টিফিকেটসহ নানা ধরনের নথি রয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী জমির দলিলও আছে এবং সম্পত্তির মিউটেশন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহুরে) প্রকল্পের অধীনে দুটি বাড়িও তাদের নামে মঞ্জুর হয়েছে, যেগুলো তাদের ১৫ ডেসিমেল জমির ওপর তৈরি।

আরও দেখুনঃ এবার খাবারেও AI নজরদারি! ট্রেনের প্যান্ট্রি কার ও কিচেনে বসছে স্মার্ট সিসিটিভি ক্যামেরা

বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগও আছে। তবুও নাগরিকত্বের মৌলিক প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানেই বাস করছেন। ৯০ বছর বয়সী গুলশান বিবি বলেছেন, তাঁর শ্বশুর বাবা খান ও শাশুড়ি রেশম খাতুন ১৯২১ সালে গাঢ়ওয়ায় এসেছিলেন। পরে অন্য আত্মীয়রাও এসে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩৮-এ পৌঁছায়। শুরুর দিকে তাঁরা অস্থায়ী কুঁড়েঘরে থাকতেন এবং দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

Advertisements


   


   

আরেক সদস্য হাদিম আলি জানিয়েছেন, (Jharkhand SIR)তাঁরা বর্তমানে শহুরে আবাস প্রকল্পের দুটি বাড়ির সুবিধা পাচ্ছেন।ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী কাশ্মীরি বলেছেন, পরিবারের ২১ জন সদস্যের নাম ২০০৮ সালের ভোটার তালিকায়ও ছিল। তাঁদের মতে, এতদিন ধরে নানা সরকারি সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও এখন নাগরিকত্বের নথি দাখিল করতে বলা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হল এবং তাঁরা ভোটার হওয়ার যোগ্য কি না, সে বিষয়ে যাচাই চলছে।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন গাঢ়ওয়া নগর পরিষদের ওয়ার্ড ১ ও ৩-এর এই পরিবারগুলোর বিষয়টি সামনে আসে। জেলা প্রশাসন নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁদের কাছে যা নথি ছিল তা জমা দিয়েছেন এবং আরও নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা ১৯৬০-এর দশকে পিতামাতার সঙ্গে ইরান থেকে এসেছিলেন, আবার কেউ বলছেন পূর্বপুরুষরা অনেক আগেই এসে স্থায়ী হয়েছেন।এই ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বকেই তুলে ধরছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে চলা এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। গাঢ়ওয়ায় এর আগেও একই ঠিকানায় শতাধিক ভোটারের নাম থাকার মতো ত্রুটি সামনে এসেছে।

প্রশাসন বলছে, যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে থাকে এবং অযোগ্যদের নাম বাদ পড়ে, সেজন্যই এই কঠোর যাচাই করা হচ্ছে।পরিবারটির সদস্যরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের সন্তানরা এখানেই জন্মেছে এবং স্কুলে পড়েছে। তবুও নাগরিকত্বের স্পষ্ট প্রমাণের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জন্মসনদ, পূর্বপুরুষের নথি বা অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র প্রয়োজন। আধার বা ভোটার আইডি থাকা মানেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *