‘UNI’ ট্রেডমার্ক নিয়ে ইউনিকয়েন বনাম ইউনিসোয়াপ, আদালতে শুরু বড় আইনি লড়াই - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘UNI’ ট্রেডমার্ক নিয়ে ইউনিকয়েন বনাম ইউনিসোয়াপ, আদালতে শুরু বড় আইনি লড়াই

Spread the love

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন দুনিয়ায় ‘ইউএনআই’ (UNI) নামকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াই শুরু হল। ইউনিকয়েন ফেডারেল আদালতে ইউনিসোয়াপ ল্যাবসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নিউইয়র্কের আদালতে দায়ের করা মামলায় ইউনিকয়েন দাবি করেছে, তাদের ‘ইউনিকয়েন’ ট্রেডমার্ক ইউনিসোয়াপের কোনও ট্রেডমার্ক অধিকার লঙ্ঘন করছে না। এর পাশাপাশি ইউনিকয়েন ইউনিসোয়াপের ‘ইউএনআই’ ট্রেডমার্কের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করারও আবেদন জানিয়েছে।

ক্রিপ্টো ডট নিউজের প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ইউনিকয়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে অভিযোগ দায়ের করে। এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। ইউনিসোয়াপের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, ইউনিকয়েন তাদের ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি ট্রেডমার্ক ডাইলিউশন, সাইবারস্কোয়াটিং এবং অন্যায্য প্রতিযোগিতার অভিযোগও তোলা হয়েছিল।

ইউনিকয়েনের দাবি, নামটি স্বাধীনভাবে তৈরি

মামলায় ইউনিকয়েন জানিয়েছে, ইউনিসোয়াপ তাদের বিরুদ্ধে প্রথম ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত দাবি তোলার অন্তত দুই বছর আগে থেকেই ইউনিকয়েন সম্পর্কে অবগত ছিল। ইউনিকয়েন আদালতের কাছে এমন ঘোষণা চেয়েছে, যাতে তারা ‘ইউনিকয়েন’ নামটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে ইউনিসোয়াপ, ‘ইউএনআই’ বা ‘ইউনিচেইন’ ট্রেডমার্কের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে গণ্য না হয়। সংস্থাটি আরও একটি পৃথক দাবি জানিয়েছে। মার্কিন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭,৩০৭,৭২১-এর বিরুদ্ধে ইউনিকয়েনের বক্তব্য, ‘ইউএনআই’ একটি জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দ হওয়ায় সেটিকে একচেটিয়া ট্রেডমার্ক হিসেবে রক্ষা করা উচিত নয়।

৩ জুন থেকেই বিরোধের সূত্রপাত

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন ইউনিসোয়াপের আইনজীবীরা ইউনিকয়েনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ইউনিকয়েনকে স্থায়ীভাবে ‘ইউনিকয়েন’ নাম ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

Advertisements


   


   

শুধু ‘ইউনিকয়েন’ নয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা ডিফাই এবং ডেসেন্ট্রালাইজড সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত কোনও নামের মধ্যে ‘ইউএনআই’ ব্যবহারের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানিয়েছিল ইউনিসোয়াপ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিসোয়াপ ইউনিকয়েনের কাছ থেকে ‘ইউনিকর্ন ডটকম’ এবং ‘ইউনিকর্ন ডটঅর্গ’ ডোমেন নাম হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছিল।

এর পাশাপাশি ইউনিকয়েন ওই নাম ব্যবহার করে কত আয় করেছে তার আর্থিক রিপোর্ট, ইউনিসোয়াপের আইনি খরচের টাকা ফেরত এবং ভবিষ্যতে বিতর্কিত ট্রেডমার্ক ব্যবহার না করার চুক্তিও চাওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিকয়েন সেই দাবি মানেনি

২৩ জুন ইউনিকয়েন ইউনিসোয়াপের প্রস্তাব মেনে নেয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘ইউনিকয়েন’ নামটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং সংস্থাটি ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এই নাম ব্যবহার করে আসছে। ইউনিকয়েনের আইনজীবীরা দাবি করেন, দুই সংস্থার ব্র্যান্ডের চেহারা এবং অর্থ, দুদিক থেকেই যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাঁদের আরও যুক্তি, ‘ইউএনআই’ শব্দাংশের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র এই তিনটি অক্ষরের উপর ইউনিসোয়াপের একচেটিয়া অধিকার দাবি দুর্বল হয়ে যায়।

১৭ জুলাই ফের আপত্তি ইউনিসোয়াপের

ইউনিকয়েনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি ইউনিসোয়াপ। ১৭ জুলাই সংস্থাটি জানায়, ‘ইউনিকয়েন’ নামটি ব্যবহার করলে গ্রাহকদের মধ্যে ইউনিসোয়াপ, ‘ইউএনআই’ এবং ‘ইউনিচেইন’-এর সঙ্গে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ইউনিসোয়াপ আরও জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে অনুকূল সমাধান না হলে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। এর পরই বিরোধ আদালতের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

‘ইউএনআই’ ট্রেডমার্কের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশ্ন

মামলায় ইউনিকয়েনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হল, ‘ইউএনআই’ শব্দটির নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য কতটা রয়েছে। ইউনিসোয়াপের নামে ‘ইউএনআই’ সংক্রান্ত একটি ফেডারেল ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এই ট্রেডমার্কটি ব্লকচেইন প্রোটোকলের গভর্ন্যান্স এবং ভোটিংয়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি টোকেন ইস্যুর প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। রেজিস্ট্রেশনে প্রথম বাণিজ্যিক ব্যবহারের তারিখ হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ উল্লেখ রয়েছে। ট্রেডমার্কটির আবেদন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

‘ইউএনআই’ কি খুব সাধারণ শব্দ?

ইউনিকয়েনের মামলার একটি বড় অংশ এই যুক্তিকে কেন্দ্র করে যে ‘ইউএনআই’ কোনও সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র শব্দ নয়। সংস্থাটির দাবি, ‘ইউএনআই’ ল্যাটিন শব্দ ‘উনুস’ থেকে আসা একটি সাধারণ উপসর্গ, যার অর্থ ‘এক’। ইউনিকয়েনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই শব্দাংশ ইউনিট, ইউনিয়ন, ইউনিভার্স, ইউনিভার্সিটি এবং এমনকি ইউনিকর্নের মতো বহু শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, মার্কিন পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসের ব্যবস্থায় ‘ইউএনআই’ যুক্ত ৩,৬০০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১,০০০টি এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ইউনিকয়েনের দাবি।

এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখেই ‘ইউএনআই’-এর স্বাতন্ত্র্য এবং ইউনিসোয়াপের একচেটিয়া ট্রেডমার্ক অধিকারের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউনিকয়েন।

দুই সংস্থার লোগোতেও পার্থক্যের দাবি

মামলার ১৪ নম্বর পাতায় ইউনিকয়েন এবং ইউনিসোয়াপের লোগো পাশাপাশি তুলনা করা হয়েছে। ইউনিকয়েনের লোগোতে ইউনিকর্নের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি কোণ এবং ধারালো রেখা রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিসোয়াপের লোগোতে বাঁকানো রেখা বা কার্ভের ব্যবহার বেশি। ইউনিকয়েনের দাবি, দুই ব্র্যান্ডের ভিজ্যুয়াল পরিচিতিতেও যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

আদালতে এখন কী হবে?

এই মামলায় মূলত দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, ‘ইউনিকয়েন’ নামটি ব্যবহারে ইউনিসোয়াপের ট্রেডমার্ক অধিকার সত্যিই লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না। দ্বিতীয়ত, ‘ইউএনআই’ শব্দাংশকে ইউনিসোয়াপ কতটা স্বতন্ত্র ট্রেডমার্ক হিসেবে দাবি করতে পারে। ইউনিকয়েন চাইছে আদালত ঘোষণা করুক যে তারা তাদের নাম ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে ‘ইউএনআই’ ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিও করেছে তারা।

অন্যদিকে ইউনিসোয়াপের অবস্থান হল, ‘ইউনিকয়েন’ নামটি তাদের ‘ইউএনআই’, ‘ইউনিসোয়াপ’ এবং ‘ইউনিচেইন’ ব্র্যান্ডের সঙ্গে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফলে ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন শিল্পে এই মামলা শুধু দুই সংস্থার নামের বিরোধ নয়, বরং প্রযুক্তি খাতে সাধারণভাবে ব্যবহৃত শব্দাংশের উপর ট্রেডমার্ক অধিকার কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *