প্রেমের টানে চিন থেকে টাঙ্গাইল এলেন যুবক, ফিরিয়ে দিল তরুণীর পরিবার
পরিচয় হয়েছিল অনলাইনে। মাস তিনেক আগে তরুণীর সঙ্গে সেই পরিচয় পরিণত হয় প্রেমে। সেই প্রেমের টানেই চিনে থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছুটে আসেন এক যুবক। দং লিয়াং নামে ওই যুবক সেই তরুণীকে বিয়ে করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তবে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন ওই তরুণীর যুবক। ফিরে গেলেও আশা ছাড়তে নারাজ লিয়াং। তিনি আবার এসে ধর্মীয় রীতি মেনে ওই তরুণীকে বিয়ে করবেন বলেও জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, মাস তিন আগে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে বছর ২৫-এর আশিতার সঙ্গে পরিচয় হয় দং লিয়াং-এর। তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। ওই তরুণীকে তিনি বিয়ে করতে চান বলেও জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে সখীপুর বাজারে পৌঁছন ওই যুবক। খবর পেয়ে আশিতা নিজেই তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বাড়িতেও নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা ছিলেন ওই যুবক।
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। তবে এর পরেই দেখা দেয় বিপত্তি। পরিবারের লোকজন জানান, ওই যুবকের ভিসার মেয়াদ আছে মাত্র ৯ দিন। এরই পাশপাশি ওই তরুণী প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করেন তাঁরা। সেই কারণেই থানায় বিষয়টি জানানোর পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় রাতেই একটি গাড়ি ভাড়া করে ওই যুবককে ঢাকায় চিনের দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম।
রবিবার, ওই তরুণীর বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, লিয়াং-এর ভিসার মেয়াদ বাকি আছে মাত্র ৯ দিন। এই অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ে করে তরুণীকে চিনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়াও আগেও এই রকম নানা প্রতারণা এবং মানব পাচারের একাধিক ঘটনা শুনেছেন তাঁরা। এই কথা চিন্তা করে তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাও জন্মায়। এই কারণে তাঁকে চিনে ফিরে উপযুক্ত ভিসার ব্যবস্থা করে আসতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণপত্রসহ পুনরায় এলে বিয়ের বিষয়টি ভেবে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। ওই যুবক আর ফিরে আসবেন না বলেও মনে করেছেন ওই তরুণীর পরিবারের লোকজন।
অন্যদিকে দং লিয়াং জানিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে ওই তরুণীকে বিয়ে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই তরুণী যাতে কোনও ভাবেই প্রতারিত না হন তা দেখা হবে বলে জানিয়েছে সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন। তবে ওই যুবককে তিনি বিয়ে করতে চান বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন আশিতা।