২.২৯ লাখে Royal Enfield Himalayan 440 লঞ্চ, ২১ ইঞ্চি চাকা ও ৬-স্পিড গিয়ারবক্স - 24 Ghanta Bangla News
Home

২.২৯ লাখে Royal Enfield Himalayan 440 লঞ্চ, ২১ ইঞ্চি চাকা ও ৬-স্পিড গিয়ারবক্স

Spread the love

অবশেষে ভারতে লঞ্চ হল রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ (Royal Enfield Himalayan 440)। লাদাখে আয়োজিত Himalayan Basecamp ইভেন্টে নতুন অ্যাডভেঞ্চার বাইকটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনা হয়েছে। চার…

অবশেষে ভারতে লঞ্চ হল রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ (Royal Enfield Himalayan 440)। লাদাখে আয়োজিত Himalayan Basecamp ইভেন্টে নতুন অ্যাডভেঞ্চার বাইকটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনা হয়েছে। চার মাস আগে এই বাইক সম্পর্কে প্রথম খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে হিমালয়ান ৪৪০-কে ২.২৯ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম, চেন্নাই) দামে লঞ্চ করল রয়্যাল এনফিল্ড। বাইকটি একটি মাত্র ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে এবং তিনটি রঙের ক্ষেত্রেই দাম একই। আজ থেকেই দেশজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের শোরুম এবং ওয়েবসাইটে বুকিং শুরু হচ্ছে।

হিমালয়ান ৪১১-এর তুলনায় কী কী বদলেছে?

হিমালয়ান ৪১১-এর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়েই নতুন হিমালয়ান ৪৪০ তৈরি করেছে রয়্যাল এনফিল্ড। সংস্থার লক্ষ্য একদিকে পুরনো হিমালয়ানের ভক্তদের পছন্দের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা, অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি দামি হিমালয়ান ৪৫০-এর নিচে একটি কম খরচের অ্যাডভেঞ্চার বাইক দেওয়া। নতুন মডেলে রয়েছে Scram 440-এর ইঞ্জিন ও ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, তবে চাকা ও সাসপেনশনে অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।

৪৪৩cc ইঞ্জিন, ২৫.৪hp পাওয়ার

হিমালয়ান ৪৪০-এ রয়েছে Scram 440-এর একই ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ২৫.৪hp পাওয়ার এবং ৩৪Nm টর্ক পাওয়া যায়। হিমালয়ান ৪১১-এর তুলনায় পাওয়ার বেড়েছে ১.৪hp এবং টর্ক বেড়েছে ২Nm। ৩ মিমি বড় বোর ব্যবহার করে এই অতিরিক্ত পারফরম্যান্স পাওয়া গেছে।

শুধু সর্বোচ্চ পাওয়ার-টর্ক নয়, ইঞ্জিনের ডেলিভারিতেও পরিবর্তন এসেছে। ২,৮০০rpm থেকেই সর্বোচ্চ টর্কের ৯০ শতাংশ পাওয়া যায়। ফলে কম গতিতে অফ-রোড চালানোর সময় এবং শহরের ট্রাফিকে বাইকটি বেশি টর্কি অনুভূতি দিতে পারে। হিমালয়ান ৪৪০-এর আইডলিং স্পিড ১,৩০০rpm।

Advertisements


   


   

৬-স্পিড গিয়ারবক্স, ১৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক

Scram 440-এর মতো হিমালয়ান ৪৪০-তেও রয়েছে ৬-স্পিড ট্রান্সমিশন এবং ১৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক। ফলে দীর্ঘ হাইওয়ে রাইডে বাইকটি আগের হিমালয়ান ৪১১-এর তুলনায় আরও আরামদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাইকটিতে স্লিপার ক্লাচ নেই। রয়্যাল এনফিল্ডের সাম্প্রতিক বেশ কিছু মডেলে এই ফিচার দেখা গেলেও হিমালয়ান ৪৪০ এবং Scram 440-এ এটি দেওয়া হয়নি।

ব্রেকিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে ৩০০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক, যার সঙ্গে দুই-পিস্টন ফ্লোটিং ক্যালিপার এবং ২৪০ মিমি রিয়ার ডিস্ক রয়েছে। পিছনে সিঙ্গল-পিস্টন ফ্লোটিং ক্যালিপার ব্যবহার করা হয়েছে। ডুয়াল-চ্যানেল ABS স্ট্যান্ডার্ড। প্রয়োজন অনুযায়ী পিছনের ABS বন্ধ করার সুবিধাও রয়েছে।

২১ ইঞ্চির সামনের চাকা, অফ-রোডে বেশি গুরুত্ব

Scram 440-এর সঙ্গে হিমালয়ান ৪৪০-এর সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলির একটি হল চাকা। রোড-কেন্দ্রিক Scram 440-তে ১৯ ইঞ্চির সামনের চাকা থাকলেও নতুন হিমালয়ান ৪৪০-এ রয়েছে ২১ ইঞ্চির সামনের চাকা। পিছনে থাকছে ১৭ ইঞ্চির চাকা।

Scram 440-এর ক্ষেত্রে অ্যালয় হুইলের বিকল্প থাকলেও হিমালয়ান ৪৪০-এ অ্যালয় হুইল দেওয়া হয়নি। অফ-রোড-কেন্দ্রিক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই স্পোকড হুইল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হিমালয়ান ৪৫০-এর টিউবলেস স্পোক হুইল ভবিষ্যতে এই বাইকে রেট্রোফিট করা যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সাসপেনশন ট্রাভেলও বাড়ল

সামনের সাসপেনশনেও Scram 440-এর তুলনায় পরিবর্তন করা হয়েছে। Scram 440-এ ফ্রন্ট সাসপেনশন ট্রাভেল ১৯০ মিমি, যেখানে হিমালয়ান ৪৪০-এ তা বেড়ে হয়েছে ২০০ মিমি। এই ২০০ মিমি ট্রাভেল হিমালয়ান ৪১১-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। পিছনে রয়েছে ১৮০ মিমি ট্রাভেল, যা Scram 440-এর মতোই। রিয়ার সাসপেনশনে একই লিঙ্কেজ মনোশক ব্যবহার করা হয়েছে। সাসপেনশনে পরিবর্তন সত্ত্বেও Scram 440-এর তুলনায় সিট হাইট মাত্র ৫ মিমি বেড়েছে। তবে ওজনের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। হিমালয়ান ৪৪০-এর কার্ব ওয়েট ১৯৯ কেজি, অর্থাৎ Scram 440-এর তুলনায় প্রায় ১২ কেজি বেশি।

নতুন ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার

হিমালয়ান ৪১১-এর চার-পড লেআউটের বদলে নতুন হিমালয়ান ৪৪০-এ আরও সরল টুইন-পড ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার দেওয়া হয়েছে। বাম দিকে রয়েছে স্পিডোমিটার এবং ডান দিকে রয়েছে পরিচিত Tripper Pod। Google Maps-চালিত টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের সুবিধা পাওয়া যাবে এতে। LED হেডলাইট ও সুইচগিয়ারের মতো বেশ কিছু অংশ Scram 440-এর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। তবে চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে হিমালয়ান ৪৪০-এ USB Type-C পোর্ট দেওয়া হয়েছে, যেখানে Scram 440-এ USB Type-A রয়েছে।

তিনটি নতুন রঙ, দাম একই

হিমালয়ান ৪৪০ তিনটি রঙে পাওয়া যাবে:

  • Mustang Brown
  • Nela White
  • Sela Black

তিনটি রঙের কোনওটির জন্যই অতিরিক্ত দাম দিতে হবে না। সবগুলির দাম ২.২৯ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম, চেন্নাই)।

৭ বছর পর্যন্ত এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি

হিমালয়ান ৪৪০-এর সঙ্গে রয়্যাল এনফিল্ড তাদের পুরো মডেল লাইনআপে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি দেওয়ার পরিকল্পনাও শুরু করেছে। স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি রয়েছে ৩ বছর বা ৩০,০০০ কিমি পর্যন্ত। ৬৫০cc মডেলগুলির ক্ষেত্রে সীমা ৪০,০০০ কিমি। ফলে এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি নিলে হিমালয়ান ৪৪০-এ আরও চার বছর বা অতিরিক্ত ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত কভারেজ যোগ হতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

বুকিং শুরু আজ, ডেলিভারি শীঘ্রই

রয়্যাল এনফিল্ড জানিয়েছে, আজ থেকেই সারা দেশের শোরুম এবং সংস্থার ওয়েবসাইটে হিমালয়ান ৪৪০-এর বুকিং শুরু হয়েছে। বাইক ইতিমধ্যেই কিছু ডিলারশিপে পৌঁছতে শুরু করেছে। তাই শীঘ্রই ডেলিভারিও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২.২৯ লাখ টাকার হিমালয়ান ৪৪০ মূলত হিমালয়ান ৪১১-এর জনপ্রিয়তা এবং হিমালয়ান ৪৫০-এর তুলনায় কম দামের অ্যাডভেঞ্চার বাইকের চাহিদাকে একসঙ্গে ধরতে চাইছে। Scram 440-এর ইঞ্জিনের সঙ্গে ২১ ইঞ্চির সামনের চাকা এবং ২০০ মিমি ফ্রন্ট সাসপেনশন ট্রাভেল যোগ হওয়ায় অফ-রোড ব্যবহারের জন্যও বাইকটি যথেষ্ট আলাদা চরিত্র পেতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *