মেসিকে অভিনব সম্মান রোসারিওর মনুমেন্টে
এই সময়: লিওনেল মেসির মতো নাম আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে হঠাৎ উবে গেলে যেমনটা হওয়া উচিত, ফুটবল দুনিয়ার হাল ঠিক সে রকমই। ঘোষণার পরে ক্ষণিকের স্তব্ধতা যেন। এমনটা ঘটতই জানা সত্ত্বেও বিস্ময়ের ঘোর থেকে গেল কিছুক্ষণ। তার পরে ধীরে ধীরে মেসি–ময়তায় সোশ্যাল মিডিয়ার মুখ ঢেকে যাওয়া। নামী ফুটবলার, সতীর্থ, প্রতিপক্ষ— সবাই কিছু না কিছু লিখে রেখেছেন সেখানে।
স্পেনের এক ক্রীড়া সাংবাদিক পেপে ব্রাসিন একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার যা বলেছেন, সেটাই হয়তো অমোঘ সত্য বলে ধরে নিয়েছেন সবাই। ব্রাসিনের কথায়, ‘আমার মতে, মেসি গতকালই অবসর নিয়ে ফেলেছে। মেসি–হীন যুগের আজই প্রথম দিন।’ ব্রাসিন সযত্নে ‘অবসর’–এর আগে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটা বসাননি। তিনি বলতে চাইছেন, মেসি যেন পুরোপুরি ফুটবল খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন। তার কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘মেজর লিগ সকার আমার কাছে ছোট লিগ। তাই জাতীয় টিমকে বিদায় জানানো মানে, ফুটবলেই ফুল স্টপ।’
মেসির অবসর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরে যখন তাঁর নিজের শহর রোসারিওয় সন্ধে নেমেছে, তখন শহরের ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ মেমোরিয়াল সেজে উঠেছে নীল, সাদা রঙে। কাছেই এল আউরা পাবলিক স্কোয়ারের ছাদে একটানা স্ক্রোলিং চলছে ইলেকট্রনিক বোর্ডে। স্প্যানিশ যে বাক্যটি টানা স্ক্রোল হয়ে চলেছে, তার বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘ধন্যবাদ লিও, এত আনন্দ দেওয়ার জন্য। রোসারিও তোমাকে ভালোবাসে।’ ধন্যবাদ জানানোর পালা অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছিল সোমবার মেসির হাতে লেখা তিনটি পাতার ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করার পরেই। আর্জেন্তিনা ফুটবল সংস্থার তরফ থেকে মেসির ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘গ্রাসিয়াস কাপিতান।’ অর্থাৎ, ধন্যবাদ ক্যাপ্টেন।
দেশের জার্সিতে কখনওই নয়, কিন্তু ক্লাবের জার্সিতে একাধিকবার মেসি মুখোমুখি হয়েছিলেন জোসে মৌরিনিওর। চেলসির কোচ থাকাকালীন কয়েকবার, তার পরে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালীন মৌরিনিওকে অনেকবারই টিম সাজাতে হয়েছে মেসিকে আটকাতে। মেসির দেশের জার্সি ছেড়ে রাখার খবর ছুঁয়ে গিয়েছে পর্তুগিজ় কোচকেও। যিনি এখন রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় ইনিংসে। মৌরিনিও বলেছেন, ‘আমার কোচিং কেরিয়ারে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে মেসিই।’
২০১১ সালে নিজেদের দেশে কোপা আমেরিকা কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হারের পরে মেসিকে শুনতে হয়েছিল, দেশের হয়ে খেলেন না। শুধু ক্লাবের জার্সিতেই ঝলমলে। ভালো করে জাতীয় সঙ্গীতও গান না। আরও কত কী! ১৫ বছর পরে একটা বিশ্বকাপ, দুটো কোপা আমেরিকা ট্রফি পেরিয়ে সেই কলঙ্ক দূর হয়েছে। অনেকে বলেন, এখনও কাঁটা একটা রয়েই গিয়েছে। তবু গোটা আর্জেন্তিনা, গোটা ফুটবল দুনিয়া বুঝে গিয়েছে, ম্যাজিকের যুগ শেষ। ‘প্রায়’ শব্দটা প্রায় অদৃশ্য হয়ে জুড়ে আছে শুধু।