Hotel Fire Safety Rules: কী কী বিধি না মানলে হোটেল, রেস্তোরাঁয় তালা পড়বে? স্পষ্ট করে দিলেন দমকলের মন্ত্রী | West Bengal Govt Warns Hotels, Restaurants: Fire Safety Violations Could Lead to Closure and Sealing
দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: কয়েকদিন আগে বীরভূমের তারাপীঠ ও কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। তারপরই জেলায় জেলায় হোটেল, রেস্তোরাঁগুলিতে দমকলের তরফে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একাধিক হোটেলে বেনিয়ম সামনে আসে। দেখা যায়, ঠিকমতো সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি অনেক হোটেলে। এই নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল রাজ্য সরকার। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী স্পষ্ট করে দিলেন, দমকল বিধি মানতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খালি করা হবে। বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ সামগ্রিক সুরক্ষা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এদিন প্রশাসনিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ছিলেন দফতরগুলোর প্রধান সচিব-সহ পদস্থ আধিকারিকরা।
বৈঠক শেষে দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ-সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট ফায়ার সেফটি প্রোটোকল এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে। বৈঠকে হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিকে ফায়ার সেফটি প্রোটোকল মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শহর ও রাজ্যের বহু পুরনো ভবনে হোটেল বা রেস্তোরাঁ চলছে। সেই সমস্ত ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ বিল্ডিং হিসেবে অনুমোদন নেওয়ার পর সেখানে হোটেল বা অন্য বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। এই ধরনের ক্ষেত্রে কলকাতা পৌরনিগম ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
কড়া বার্তা মন্ত্রীর-
মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, যেসব হোটেল বা রেস্তোরাঁয় অগ্নি সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে না, তাদের নোটিস পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও অগ্নি নিরাপত্তার বিধি না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খালি করে দেওয়া হবে। এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে সিল করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে।
হোটেলগুলিতে আগুন লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই অগ্নিনিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছোট হোটেলগুলির ক্ষেত্রে দুই বা তিনটি AC ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে অনেক সময় তার চেয়ে অনেক বেশি AC চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান দমকল প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অনিয়ম চিহ্নিত করতে CESC এবং WBSEDCL-কে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদিত লোডের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা হবে বলে মন্ত্রী জানান।