পুরোনো গয়নার আধুনিক রূপ, ঠাকুমার ‘সাতনরি’ই এখন জেন জ়ি-দের ‘বোহো’ লুকের সঙ্গী
গয়না কেনা এবং পরার সনাতনী সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। একসময় সোনা কেনা হতো বিয়ের জন্য, হিরে তুলে রাখা হতো বিবাহবার্ষিকীর জন্য, আর ভারী অলঙ্কার লকার থেকে বের হতো কেবল বিশেষ উৎসব-অনুষ্ঠানে। কিন্তু জেন জ়ি (Gen Z) ও মিলেনিয়ালদের হাত ধরে সেই ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে গয়না লকারে তুলে রাখার সামগ্রী নয়, বরং এটি তাদের কাছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
গয়না কেনাকাটার কারণ ও ধরন দুই-ই বদলে গিয়েছে। তরুণ ক্রেতারা এখন এমন গয়না খুঁজছেন যা সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানাবে। যেমন: একদিকে কুর্তির সঙ্গে পরা যাবে। অন্যদিকে, শার্ট বা ডেনিমের সঙ্গেও দারুণ লাগবে। উপহার বা পারিবারিক আয়োজনের জন্য অপেক্ষা না করে জেন জ়ি-রা নিজেদের সাফল্য (যেমন প্রথম চাকরি, প্রমোশন বা জন্মদিন) উদযাপন করতে নিজেরাই গয়না কিনছেন।
বিশাল কোনও গয়নার সেটের চেয়ে প্রতিদিন পরার মতো ৫টি ছোট ও হালকা পিস (যেমন স্ট্যাকেবল রিং, পাতলা চেন বা ব্রেসলেট) বেশি পছন্দ করছেন তাঁরা। পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গয়নার সঙ্গে আধুনিক ওয়েস্টার্ন পোশাকের ফিউশন করা এখন ট্রেন্ডিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো শিল্প বিশেষজ্ঞ ও গয়নার ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো গয়না এখন লকার থেকে বেরিয়ে বাড়ির আলমারিতে স্থান করে নিচ্ছে। জেন জ়ি-রা কিন্তু ঐতিহ্যকে ত্যাগ করছে না, বরং নিজেদের মতো করে গড়ে নিচ্ছে। তরুণ ক্রেতারা কারুশিল্পের কদর করেন। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নকশাকে আধুনিকতার ছাঁচে দেখতে চাইছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এবং গ্লোবাল ট্রেন্ডের কারণে আজকের প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা গয়নার ইতিহাস, কারিগরদের অবদান এবং ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা নিয়েও খোঁজখবর করেন। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মোটিফ বা পরিবারসূত্রে পাওয়া প্রাচীন গয়না (Heirloom) তাঁরা বাতিল করছে না, বরং ঠাকুমা-দিদিমাদের দেওয়া সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিকতার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে।