স্কুলে বই না আনায় একটানা রোদে দাঁড় করিয়ে শাস্তি, ১০ বছরের ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্কুলে বই না আনায় একটানা রোদে দাঁড় করিয়ে শাস্তি, ১০ বছরের ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

Spread the love

স্কুলে বই আনেনি। সেই ‘অপরাধে’ প্রবল রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল ১০ বছরের এক ছাত্রীকে—পরিবারের এমন অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লিতে। অভিযোগ, শাস্তির পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের শিক্ষিকার ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অপমান এবং শারীরিক নির্যাতনের পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। তার জেরেই মৃত্যু হয় পূর্ব দিল্লির ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর। ঘটনাকে ঘিরে এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব দিল্লির পাণ্ডব নগর এলাকার একটি সরকারি স্কুলে। মৃত ছাত্রীটি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরিবারের অভিযোগ, গত ২২ জুলাই স্কুলে বই না নিয়ে যাওয়ায় শিক্ষিকা তাকে বকাঝকা করেন। এর পরে শাস্তি হিসেবে তাকে ক্লাসের বাইরে, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় রোদে থাকার পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে পরিবারের দাবি।

গত ২৭ অগস্ট ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। পরে সোমবার, ৩১ অগস্ট, কল্যাণপুরী থানায় পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়, স্কুলে শিক্ষিকার শারীরিক নির্যাতনের পরেই মেয়েটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল।

কী হয়েছিল স্কুলে?

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই স্কুলে বই না নিয়ে যাওয়ায় ক্লাসের শিক্ষিকা মেয়েটিকে বকাঝকা করেন। এর পরে তাকে ক্লাসের পিছনে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময়েই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠায়। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, স্কুলের ওই ঘটনার পর মেয়েটি গভীর ভাবে ভেঙে পড়েছিল। এমনকী পরিবারের আরও অভিযোগ, মেয়েটি অসুস্থ হওয়ার পর স্কুলের পক্ষ থেকে কেউ তার খোঁজ নিতে বাড়িতে আসেনি।

চিকিৎসাও চলছিল

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির আগে থেকেই মৃগীরোগের সমস্যা ছিল। ২২ তারিখ স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে তাকে IHBAS-এ চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং স্কুলে দেওয়া শাস্তির সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পরিবারের বক্তব্য, মেয়েটির আগেও একাধিকবার স্কুলে অসুস্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২২ জুলাই স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে তাকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো না কেন—এই প্রশ্নও তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্র সিং নেগিও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ

পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হলেও পুলিশ জানিয়েছে, ২২ জুলাই থেকে মেয়েটির মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৪০ দিন সময় কেটে গেলেও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মারধর বা শারীরিক নির্যাতনের কোনও অভিযোগ আগে জানানো হয়নি। ২৭ অগস্ট শিশুটির মৃত্যু হয় এবং পরিবারের তরফে তার শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়েছিল। এরপর ৩১ অগস্ট কল্যাণপুরী থানায় PCR কল পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

ঘটনার পরে পরিবারের অভিযোগ এবং স্কুলে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটির অসুস্থতার পূর্ব ইতিহাস, চিকিৎসার নথি এবং মৃত্যুর কারণও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বই না আনার মতো একটি ভুলের জন্য একটি শিশুকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল কি না, সেই শাস্তিই তার অসুস্থতার কারণ হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *