৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়বে DRDO-এর লজিস্টিক ড্রোন, বহন করবে ২০০ কেজি - 24 Ghanta Bangla News
Home

৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়বে DRDO-এর লজিস্টিক ড্রোন, বহন করবে ২০০ কেজি

Spread the love

কলকাতা:  ভারতীয় সেনার দুর্গম সীমান্তবর্তী পোস্টগুলিতে রসদ পৌঁছে দিতে বড় ক্ষমতার ভিটিওএল বা ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং লজিস্টিক ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে DRDO।  দেশীয় প্রযুক্তিতে…

কলকাতা:  ভারতীয় সেনার দুর্গম সীমান্তবর্তী পোস্টগুলিতে রসদ পৌঁছে দিতে বড় ক্ষমতার ভিটিওএল বা ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং লজিস্টিক ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে DRDO।  দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই মনুষ্যবিহীন উড়ানযানের লক্ষ্য হল চিন ও পাকিস্তান সীমান্তের এমন সব উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সেনাদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, যেখানে রাস্তা বা প্রচলিত পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা অত্যন্ত কঠিন।

একবারে ২০০ কেজি রসদ বহনের ক্ষমতা

প্রস্তাবিত ড্রোনটি একবারে সর্বোচ্চ ২০০ কিলোগ্রাম ওজনের মালপত্র বহন করতে পারবে। এর একমুখী উড়ানপথের দূরত্ব হতে হবে সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার।অর্থাৎ দুর্গম সীমান্ত পোস্টে খাবার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় সামরিক রসদ-সহ বিভিন্ন সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দিতে এই ড্রোন ব্যবহার করা যেতে পারে।

২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার লক্ষ্য

ডিআরডিও-র প্রকল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল উচ্চতা। ড্রোনটিকে প্রায় ২৫,০০০ ফুট উচ্চতায় কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।এত বেশি উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব অনেক কম থাকে। ফলে রোটর থেকে পর্যাপ্ত লিফট তৈরি করা এবং ইঞ্জিনের শক্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। তার সঙ্গে যুক্ত হবে পাহাড়ি আবহাওয়া এবং অত্যন্ত কম তাপমাত্রা।

মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতেও কাজ করতে হবে

ড্রোনটির জন্য নির্ধারিত পরিবেশগত সক্ষমতার শর্তও যথেষ্ট কঠিন। প্রস্তাবিত ইউএভিকে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও কার্যক্ষম থাকতে হবে।এই কারণেই শুধুমাত্র ব্যাটারি-চালিত বৈদ্যুতিক ড্রোনের পরিবর্তে ভারী জ্বালানি-চালিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ভারী জ্বালানির ইঞ্জিন কেন?

অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘক্ষণ এবং ভারী ওজন নিয়ে উড়ানের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন বেশি কার্যকর হতে পারে। ডিআরডিও প্রস্তাবিত ড্রোনে এমন একটি হেভি-ফুয়েল ইন্টারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন চায়, যা সামরিক পরিকাঠামোয় ব্যবহৃত জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে দুর্গম পোস্টে আলাদা ধরনের জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন কমতে পারে।

দিনে পাঁচটি পর্যন্ত সরবরাহ অভিযান

ড্রোনটিকে একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। এটি একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী, একটি ড্রোনকে দিনে পাঁচটি পর্যন্ত সরবরাহ অভিযান চালাতে সক্ষম হতে হবে। ফলে সীমান্তের একাধিক বিচ্ছিন্ন পোস্টে নিয়মিত রসদ পাঠানোর ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক ড্রোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

জিপিএস বন্ধ থাকলেও পথ খুঁজে নেবে

আধুনিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ নেভিগেশন সিগন্যাল জ্যাম করতে পারে। বিশেষ করে জিপিএস বা ন্যাভআইসি-র মতো জিএনএসএস সিগন্যাল ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে বিঘ্নিত হলে সাধারণ নেভিগেশন-নির্ভর ড্রোন সমস্যায় পড়তে পারে। ডিআরডিও-র প্রস্তাবিত ড্রোনে তাই স্যাটেলাইট নেভিগেশনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে কাজ করার মতো স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট-কন্ট্রোল ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি করে পথ চেনার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে নেভিগেশন সিগন্যাল জ্যাম হলেও ড্রোন নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছতে পারবে।

হেলিকপ্টারের বিকল্প হিসেবে বড় ভূমিকা

উচ্চ পার্বত্য সীমান্তে বর্তমানে সেনাদের রসদ পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টারের উপর যথেষ্ট নির্ভর করতে হয়। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া, দুর্গম ভূখণ্ড এবং শত্রুর নজরদারি বা হামলার ঝুঁকির কারণে প্রতিটি সরবরাহ অভিযান সহজ নয়। ভারী ওজন বহনে সক্ষম এই ধরনের মনুষ্যবিহীন ড্রোন নিয়মিত ছোট আকারের সরবরাহ অভিযানে ব্যবহার করা গেলে হেলিকপ্টারের উপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে পাইলটকে বিপজ্জনক আবহাওয়া বা শত্রুর আগুনের মধ্যে পাঠানোর প্রয়োজনও থাকবে না।

সীমান্তে স্বনির্ভর সামরিক লজিস্টিকের দিকে বড় পদক্ষেপ

২০০ কেজি পেলোড, ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত একমুখী উড়ান, ২৫ হাজার ফুট সার্ভিস সিলিং এবং মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে কাজ করার সক্ষমতা, সব মিলিয়ে ডিআরডিও-র প্রস্তাবিত ভিটিওএল ড্রোনটি সাধারণ বাণিজ্যিক লজিস্টিক ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

প্রকল্পটি সফল হলে ভারতের উচ্চ পার্বত্য সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় ও দেশীয় লজিস্টিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। বিশেষ করে জিএনএসএস-নির্ভরতা ছাড়াই কাজ করার সক্ষমতা ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই প্ল্যাটফর্মকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *