আর্থিক সংকট-ঋণের বোঝা ? ৩ বছরের শিশুকে ফেলে উত্তাল গোদাবরীতে ঝাঁপ দম্পতির
পশ্চিম গোদাবরী: গভীর রাতে সেতুর উপর থেকে (couple jump)গোদাবরীর ফুলে-ফেঁপে ওঠা জলে ঝাঁপ দিল এক দম্পতি। আর সেই ঘটনার পর অন্ধকার সেতুর উপর তিন বছরের…
পশ্চিম গোদাবরী: গভীর রাতে সেতুর উপর থেকে (couple jump)গোদাবরীর ফুলে-ফেঁপে ওঠা জলে ঝাঁপ দিল এক দম্পতি। আর সেই ঘটনার পর অন্ধকার সেতুর উপর তিন বছরের এক শিশুকে একা কাঁদতে দেখা গেল। অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার চিনচিনাদা বাসিষ্ঠা সেতুতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতির খোঁজে নদীতে তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের তিন বছরের সন্তানকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেলপুর গ্রামের বাসিন্দা দোদ্দা সাই, (couple jump)বয়স ২৯ বছর এবং তাঁর স্ত্রী শিরীষা, বয়স ২৮ বছর, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে তাঁদের ছোট সন্তানকে নিয়ে সেতুর কাছে পৌঁছন। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তাঁরা একটি স্কুটারে করে চিনচিনাদা বাসিষ্ঠা সেতুতে এসেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ, সেতুর উপর স্কুটারটি রেখে তাঁরা তিন বছরের সন্তানকে সেখানেই একা ফেলে দেন। এরপর দু’জনে গোদাবরীর প্রবল স্রোতে ঝাঁপ দেন বলে পুলিশের দাবি।
আরও দেখুনঃ এক ধাক্কায় প্রায় ৪ টাকা বাড়ল সিএনজি-র দাম, রাজ্যে রাজ্যে ভাড়াবৃদ্ধির আতঙ্ক
দুর্বল উপজাতিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে! মোদী সরকারকে নিকোবর প্রকল্প স্থগিত করার আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের
বিশাখাপত্তনম অতীত! এবার জলপথে যুদ্ধের জন্য ভারতের অস্ত্র জাপানের ‘মায়া’
রাতের অন্ধকারে সেতুর উপর একা পড়ে থাকা শিশুটি কিছুক্ষণ পর কান্নায় ভেঙে পড়ে। ঠান্ডা এবং অন্ধকারের মধ্যে তাকে কাঁদতে দেখে পথচারীদের সন্দেহ হয়। স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখনই শিশুটিকে বারবার ‘আম্মা নান্না’ অর্থাৎ মা-বাবা বলে ডাকতে শোনা যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
পুলিশ সেতুর উপর থেকে স্কুটারটি উদ্ধার করে এবং শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। (couple jump)এরপর স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্ধারকারী দল, সাঁতারু এবং নৌকার সাহায্যে গোদাবরীতে তল্লাশি শুরু হয়। নদীতে তখন জলস্তর এবং স্রোত দু’টিই বেশি ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে নিখোঁজ দম্পতিকে খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দলকে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাবা-মাকে হারানোর আশঙ্কার মধ্যেই এতক্ষণ সেতুর উপর একা থাকা শিশুটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও আবেগ তৈরি হয়। কী ঘটেছিল, কেন তাঁরা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দোদ্দা সাই পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। (couple jump)এর আগে তিনি কিছু সময় উপসাগরীয় দেশগুলিতেও কাজ করেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পরে অন্ধ্রপ্রদেশে ফিরে আসার পর তাঁর উপর আর্থিক চাপ বাড়ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা।
পরিবারটির উপর ঋণের বোঝা ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁরা নিজেদের বাড়ি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে, এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি পুলিশ।