বিশাখাপত্তনম অতীত! এবার জলপথে যুদ্ধের জন্য ভারতের অস্ত্র জাপানের ‘মায়া’
নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী তার পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে (Project 18)জাপানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে। প্রজেক্ট-১৮ নামে পরিচিত এই নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার কর্মসূচি বর্তমান বিশাখাপত্তনম…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী তার পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে (Project 18)জাপানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে। প্রজেক্ট-১৮ নামে পরিচিত এই নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার কর্মসূচি বর্তমান বিশাখাপত্তনম শ্রেণির চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার টন পর্যন্ত ডিসপ্লেসমেন্টের এই জাহাজকে ক্রুজার শ্রেণির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে জাপানের মায়া-শ্রেণির (Project 18 )ডিস্ট্রয়ারের প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে নয়াদিল্লি।মায়া-শ্রেণির জাহাজ জাপান মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এগুলোর পূর্ণ লোড ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ১০ হাজার ২৫০ টন। এতে রয়েছে অ্যাজিস কমব্যাট সিস্টেম, উন্নত রাডার ও সেন্সর ব্যবস্থা এবং ৯৬টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল।
আরও দেখুনঃ মনুস্মৃতি নিয়ে বক্তব্যের জের! রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে FIR মুসলিম নেত্রী নাজিয়ার
১৪ তলা থেকে পড়ে কিভাবে শুধু দাঁত ভাঙে! সুশান্ত সিংয়ের ম্যানেজারের মৃত্যু মামলায় তদন্তের গাফিলতি
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় তৈরী হল নতুন প্রকল্প সমুদ্র মন্থনের বছর ভিত্তিক রোডম্যাপ
বিমান প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষায় এর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। (Project 18)ভারতের প্রজেক্ট-১৮-এর নকশাও প্রায় একই আকার ও মিশনের দিকে এগোচ্ছে। তাই মায়া-শ্রেণির কমব্যাট সিস্টেম, সেন্সর ফিউশন, নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার এবং ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তি ভারতের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।প্রজেক্ট-১৮-এ প্রায় ১৪৪টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ব্রহ্মোস মিসাইল, প্রজেক্ট কুশা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ভবিষ্যতের হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েন করা যাবে। নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে জাহাজটি ভবিষ্যতের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। (Project 18 )আকার, অগ্নিশক্তি এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক যুদ্ধজাহাজ হয়ে উঠতে পারে।জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা সম্প্রতি আরও গতি পেয়েছে।
গত ২০ আগস্ট নয়াদিল্লিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে নৌজাহাজ নির্মাণ ও নকশায় যৌথ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। (Project 18 )জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের উৎপাদন সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কাঠামোর অধীনে জাপান ভারতের উৎপাদন সুবিধা ব্যবহার করতে পারে বলেও মতবিনিময় হয়েছে।
মায়া-শ্রেণির প্রযুক্তি সরাসরি কেনা নয়, বরং এর অভিজ্ঞতা ও কিছু সিস্টেম থেকে শিক্ষা নেওয়ার দিকেই নজর দিচ্ছে ভারত।ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌশক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। চিনের নৌবাহিনীর দ্রুত সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে ভারতকেও নিজের সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে।
প্রজেক্ট-১৮ সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। (Project 18 )বড় হাল, বেশি মিসাইল ধারণক্ষমতা এবং উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা থাকলে এই জাহাজ দীর্ঘ পাল্লার এয়ার ডিফেন্স ও স্ট্রাইক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে প্রকল্পের সময় কমে আসতে পারে এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও কমবে।