উত্তর ভারতের চা শিল্পে সঙ্কটের আশঙ্কা, নিলামে দাম কমেছে ১৭ শতাংশ
কলকাতা: উত্তর ভারতের চা শিল্পে (Tea Industry) সাম্প্রতিক সময়ে নিলাম দর লাগাতার কমতে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করল টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (টিএআই)। সংগঠনের আশঙ্কা, চায়ের…
কলকাতা: উত্তর ভারতের চা শিল্পে (Tea Industry) সাম্প্রতিক সময়ে নিলাম দর লাগাতার কমতে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করল টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (টিএআই)। সংগঠনের আশঙ্কা, চায়ের দাম কমার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিল্পের ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
পাঁচ-ছয় সপ্তাহে চায়ের দামে বড় পতন
টিএআই জানিয়েছে, জুলাই থেকে অগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে উত্তর ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চা নিলাম কেন্দ্র কলকাতা, গুয়াহাটি এবং শিলিগুড়িতে চায়ের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি শৈলজা মেহতা জানিয়েছেন, গত পাঁচ-ছয় সপ্তাহে নিলাম দর দ্রুত কমে যাওয়ায় অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কলকাতায় দাম কমেছে ১৭ শতাংশ
কলকাতা টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বা সিটিটিএ-তে সিটিসি চায়ের গড় নিলাম দর সেল নম্বর ২৬-এ ছিল কেজিপ্রতি ২৯১.২৭ টাকা। সেল নম্বর ৩৪-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩৮.৭৭ টাকা। অর্থাৎ, দুই মাসেরও কম সময়ে কেজিপ্রতি প্রায় ৫৩ টাকা বা ১৭ শতাংশ দাম কমেছে। গুয়াহাটি টি অকশন সেন্টারেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেখানে সিটিসি চায়ের গড় দাম ২৬ নম্বর সেলে ২৬৪.৮৯ টাকা থেকে কমে ৩৪ নম্বর সেলে হয়েছে ২২১.৫৭ টাকা। অর্থাৎ দাম কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। শিলিগুড়ির এসটিএসি-তেও এই সময়ে চায়ের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। কেজিপ্রতি দাম ২০১.৮০ টাকা থেকে নেমে হয়েছে ১৮২.৩০ টাকা।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
শুধু বাড়তি সরবরাহের জন্য দাম কমেনি
টিএআই-এর দাবি, নিলামে চায়ের দাম কমার কারণ হিসেবে শুধুমাত্র অতিরিক্ত সরবরাহকে দায়ী করা যায় না। টি বোর্ডের জুন ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় উত্তর ভারতে চায়ের উৎপাদন প্রায় ১৬ মিলিয়ন কেজি বা ৫ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু এরপর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। অসমে ভয়াবহ বন্যা, বিভিন্ন চা-বাগান এলাকায় অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং ব্যাপক কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণ উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।
জুলাইয়ে উৎপাদন কমেছে ৮ শতাংশ
টিএআই-এর সদস্য চা-বাগানগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ উত্তর ভারতে চায়ের উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। অগস্টেও একই ধরনের পতন হতে পারে বলে সংগঠনের অনুমান। এর ফলে অগস্টের শেষ নাগাদ উত্তর ভারতে গত বছরের তুলনায় মোট উৎপাদন প্রায় ৮ মিলিয়ন কেজি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে অসমের বন্যায় বহু চা-বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। জলমগ্ন চা-গাছগুলি পুনরুদ্ধার হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে টিএআই।
অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পে বাড়ছে চাপ
উত্তর ভারতের চা শিল্পের মধ্যে অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন রাজ্যগুলির চা উৎপাদন ধরা হয়। এই অঞ্চলের চা শিল্প বর্তমানে একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছে। একদিকে বন্যা, অতিরিক্ত গরম এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি, উৎপাদন খরচ এবং বোনাস বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে। ফলে কম নিলাম দামের সঙ্গে বাড়তি খরচ যুক্ত হয়ে চা-বাগান মালিকদের উপর চাপ আরও বাড়ছে।
রফতানিতেও স্বস্তি নেই
চায়ের আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি খুব একটা ইতিবাচক নয়। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে চলতি বছরে ভারতের চা রফতানিও গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে টিএআই জানিয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত থেকে রেকর্ড ২৮৫.৫৩ মিলিয়ন কেজি চা রফতানি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ মিলিয়ন কেজি বা ১৮ শতাংশ কম রয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
টিএআই-এর মতে, উৎপাদন কমার পাশাপাশি নিলাম দর পড়ে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্প কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে বিশেষ করে অসমে উৎপাদন আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংগঠনটি। ফলে নিলাম দর, উৎপাদন, রফতানি এবং বাড়তে থাকা খরচের সমীকরণ আগামী দিনে উত্তর ভারতের চা শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।