মক্কা চুক্তিতে সায় বাংলাদেশের? ‘কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়’, ভারতকে তোপ জামাতের
ঢাকা: বাংলাদেশ কি এবার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশগুলির তৈরি ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক জোট ‘মক্কা চুক্তি’ (Mecca Pact)-তে যোগ দিতে চলেছে? সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আর এই আবহেই নাম না করে ভারতকে সরাসরি নিশানা করলেন বাংলাদেশের বিরোধী দলনেতা তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (JeI) আমির শফিকুর রহমান। তাঁর সাফ কথা, এই জোটে যোগদান করা ঢাকার সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
কী বললেন জামাত নেতা?
এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডলে শফিকুর রহমান লিখেছেন, “মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়াটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব এবং সার্বভৌম ব্যাপার। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ এবং চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা নিয়ে অন্য কারও বিরক্ত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।” কূটনৈতিক মহলের মতে, শফিকুর রহমানের এই বার্তার তির সরাসরি ভারতের দিকেই।
সরকারের অবস্থান কী?
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও যে এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা করছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে। নবনিযুক্ত বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর তুরস্কের জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়া তথা গোটা বিশ্বের মুসলিম দুনিয়া এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে তাদের পাশে চাইছে। পশ্চিম এশিয়ায় যদি ইসলামিক দেশগুলির মধ্যে কোনও নিরাপত্তা চুক্তি থাকে, তবে সেখানে আমাদের যোগদান করাটা মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের আবহে সম্প্রতি এই ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যতরী চলাচলে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটেই এই জোট তৈরি হয়েছে। এই চুক্তিটি আক্ষরিক অর্থেই ‘ন্যাটো’ (NATO)-র ধাঁচে তৈরি। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, এই জোটের কোনও একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে, তা সমস্ত সদস্য দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। মূলত ‘সম্মিলিত প্রতিরোধ’ (Collective deterrence) গড়ে তোলা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
তুরস্কের মতোই বাংলাদেশও সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সুন্নি মুসলিম। কিন্তু ভারতের কাছে প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছিল ভারত। আজ সেই বাংলাদেশই যদি চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে একই সামরিক জোটে আবদ্ধ হয়, তবে তা নয়াদিল্লির জন্য একটি বড় কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তর অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিকগুলি বিবেচনা করেই ঢাকাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ভারতের ঘাড়ের কাছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য সামরিক আঁতাত যে সাউথ ব্লকের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা খাতে ২৭০০ কোটি অনুমোদন দিল মোদী সরকার
রাজনাথের অস্ত্র উৎপাদনের বেসরকারিকরণে এবার তৈরী হবে ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার মিসাইল