পেঁয়াজের দামে বড় ধাক্কা, খুচরোতে ৫৯% ও পাইকারিতে ৬৮% বৃদ্ধি
নয়াদিল্লি: ফের বাড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যের দাম। দেশে পেঁয়াজের খুচরো দামে (Onion Price) এক বছরে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ২৪ আগস্ট সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম…
নয়াদিল্লি: ফের বাড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যের দাম। দেশে পেঁয়াজের খুচরো দামে (Onion Price) এক বছরে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ২৪ আগস্ট সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৪৩.৫৩ টাকায় পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৭.৩৭ টাকা। শুধু খুচরো বাজার নয়, পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম গত বছরের ২১.২৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫.৫৮ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে, অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি ৬৮ শতাংশ।
খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বড় শহরেও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৪ আগস্ট চেন্নাইয়ে খুচরো পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, যা গত বছরের ৩৩ টাকার তুলনায় ৮১.৮ শতাংশ বেশি। দিল্লিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা প্রতি কেজি, যেখানে এক বছর আগে দাম ছিল ৩৫ টাকা। অর্থাৎ দিল্লিতে এক বছরে দাম বেড়েছে ৫৭.১ শতাংশ। কলকাতায় ২৪ আগস্ট পেঁয়াজের খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৫৩ টাকা।
পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বাজারে বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নাসিক থেকে দেশের বেশি চাহিদার বিভিন্ন ভোগকেন্দ্রে নির্দিষ্ট রেকের মাধ্যমে রেলপথে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে পেঁয়াজের দামের মরসুমি অস্থিরতা কমানো এবং সাধারণ ক্রেতাদের উপর বাড়তি চাপ আটকানো।
সরকারি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজের দাম, বাজারে আগমন এবং মজুত পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পেঁয়াজ বর্তমানে দেশে রয়েছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ মরশুমে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন আনুমানিক ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। আগের মরশুমে উৎপাদন ছিল প্রায় ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা নেই।
সরকারের কাছে থাকা বাফার স্টক থেকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী বাজারে পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থও মূল্য স্থিতিশীলতার পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে সরবরাহ কমে গেলে বাফার স্টক থেকে দ্রুত পেঁয়াজ ছাড়ার মাধ্যমে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণত আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দামে মরসুমি বৃদ্ধি এবং অস্থিরতা দেখা যায়। উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পরিবর্তন, সরবরাহ ব্যবস্থার ওঠানামা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারে পেঁয়াজ পৌঁছনোর গতির উপর দামের বড় প্রভাব পড়ে। ফলে এই সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরকার এর আগেও রেলপথে বাফার স্টকের পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ১৪টি রেল রেকের মাধ্যমে পাঁচটি শহরে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই উদ্যোগ আরও বড় করা হয়। ওই সময় প্রায় ৮৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৬টি রেল রেকের মাধ্যমে দেশের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পাঠানো হয়।
সরকারের মতে, মরশুমের তুলনামূলক দুর্বল সময়ে মাণ্ডিতে বাফার স্টক থেকে সময়মতো পেঁয়াজ ছাড়া এবং বড় ভোগকেন্দ্রগুলিতে নির্দিষ্টভাবে খুচরো বিক্রি বাড়ানো হলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমানো সম্ভব। এর ফলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলেই আশা করছে কেন্দ্র।
তবে বর্তমানে চেন্নাই, দিল্লি এবং কলকাতার মতো বড় শহরে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে বাফার স্টক থেকে কত দ্রুত এবং কত পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসে, তার উপরই দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।