যশোর রোডে গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড! পুড়ে ছাই ৩০ টি গাড়ি
কলকাতা: মধ্যমগ্রামে সোমবার ভোররাতে একটি গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ আগুন লাগে (Madhyamgram)। যশোর রোডে অবস্থিত ওই শোরুমে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুলিশের…
কলকাতা: মধ্যমগ্রামে সোমবার ভোররাতে একটি গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ আগুন লাগে (Madhyamgram)। যশোর রোডে অবস্থিত ওই শোরুমে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভোর প্রায় সাড়ে চারটার সময় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা শোরুমের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে আঁচ করতে পারেন।
এরপর শিখা দেখে তাঁরা দ্রুত ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশকে খবর দেন। মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram)ও বিরাটি ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথম দল এসে পৌঁছায়। পরে আরও কয়েকটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়। মোট আটটি ফায়ার টেন্ডার প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।
আরও দেখুনঃ ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে নৃশংস হত্যা! তিন দশক পর ওয়ান্ধামা গণহত্যার ফাইল ফের খুলল এসআইএ
অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে কুলিং প্রক্রিয়া চলছে যাতে আবার আগুন না ধরে।মধ্যমগ্রাম ফায়ার (Madhyamgram)স্টেশনের অফিসার শুভশিস নাথ জানিয়েছেন, শোরুমের ভেতরে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি সিস্টেম ছিল না।
এ কারণে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে শোরুমের ভিতরে কোনো ফায়ারফাইটিং বা ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা দেখা যায়নি।” পুলিশ কর্মকর্তারাও একই কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের মতে, আগুনের সঠিক কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে।ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা গেছে, শোরুমের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। (Madhyamgram)গাড়িগুলোর কাঠামো গলে নষ্ট হয়েছে। কিছু গাড়ির শুধু কঙ্কালটুকু অবশিষ্ট।
আরও দেখুনঃ বিজেপির সর্বোচ্চ পার্লামেন্টারি বোর্ডে এবার জুড়তে চলেছেন ৪ মহারথী মুখ্যমন্ত্রী
আগুনের তাপে আশেপাশের এলাকায়ও প্রভাব পড়েছে। যশোর রোডে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগে থাকে। ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তার একদিক অনেকক্ষণ বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় মানুষজন উদ্বিগ্ন হয়ে ঘটনাস্থলের আশেপাশে জড়ো হন।
তবে প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়।এই অগ্নিকাণ্ড শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই করেনি, ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গাড়ির শোরুমগুলোতে সাধারণত দামি গাড়ি রাখা হয়। একসঙ্গে এতগুলো গাড়ি পুড়ে যাওয়ায় মালিকপক্ষের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বীমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। (Madhyamgram)তবে আপাতত তদন্তই মুখ্য। ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। আগুনের উৎস কোথায়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণ এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।মধ্যমগ্রাম এলাকায় এ ধরনের বড় অগ্নিকাণ্ড তেমন একটা হয় না। তাই স্থানীয়রা কিছুটা আতঙ্কিত। অনেকে বলছেন, শোরুম বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
আরও দেখুনঃ একুশের পর ২৮ অগস্ট! ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে হাইকোর্টে মমতা-ঋতব্রত তরজা
নিয়মিত মহড়া ও সরঞ্জাম পরীক্ষা করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। ফায়ার অফিসারের মন্তব্যেও সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যায়। শোরুমের (Madhyamgram)ভেতরে কোনো ফায়ার সেফটি সিস্টেম না থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে।প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। কুলিং কাজ শেষ হলে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করা হবে। যান চলাচলও স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে। যশোর রোডে সকাল থেকেই যানজটের কারণে অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। অফিসগামী ও স্কুলগামীদের সমস্যা হয়। পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দিয়েছে।